হরমুজ প্রণালি। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ মে- হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার মধ্যেই অবশেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ট্যাংকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা ও অভিযোগের মধ্যে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজের ওপর “উসকানিবিহীন” হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেছে সেন্টকম।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ট্রুক্সটুন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস ম্যাসন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালায়। তবে কোনো মার্কিন সামরিক সম্পদ আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি।
মার্কিন বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আকাশপথে আসা হুমকি ধ্বংস করে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং গোয়েন্দা নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালায় বলে জানিয়েছে সেন্টকম। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে নিজেদের বাহিনী রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ভেতরে কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো “উল্লেখযোগ্য ক্ষতির” মুখে পড়েছে। যদিও এই দাবি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মাল্টার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘ওডেসা’ দক্ষিণ কোরিয়ার সিওসান উপকূলে পৌঁছেছে। শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের শুরুতে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করার পর এই প্রথম কোনো তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে ওই পথ পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হলো।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের জেরে গত কয়েক মাস ধরে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তবে নতুন করে ড্রোন হামলা শুরু হওয়ায় এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি আমদানির জন্য ব্যাপকভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল সাময়িকভাবে উত্তেজনা কিছুটা কমে গেলে ‘ওডেসা’ ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে এই সপ্তাহে সেটি দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছে। জাহাজটিতে থাকা অপরিশোধিত তেল এখন পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল ও ডিজেলের মতো জ্বালানি পণ্যে রূপান্তর করা হবে।