পারমাণবিক কূটনীতি: কীভাবে জ্বালানি দিয়ে বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করছে রাশিয়া
মেলবোর্ন, ৯ মে- রাশিয়া কীভাবে বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তির বাজারে আধিপত্য গড়ে তুলেছে এবং এর মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী…
মেলবোর্ন, ৯ মে- বাংলাদেশের লালমনিরহাট ও বগুড়া বিমানঘাঁটির আধুনিকায়ন কাজকে ঘিরে কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত গুরুত্ব বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর এবং পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা এটিকে শুধু অবকাঠামোগত নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রকল্প হিসেবেও দেখছেন।
কয়েক মাস আগে প্রকল্পের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক জরিপ বা সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।
গত ৭ মে সকালে বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বিশেষ হেলিকপ্টারে করে বগুড়ায় যান। সেখানে তারা নির্মাণাধীন ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, বহুমুখী যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন।
বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিমান বাহিনী প্রধান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বগুড়ায় একটি আধুনিক বিমানঘাঁটি গড়ে তোলার কাজ কতদূর এগিয়েছে তা দেখতে এসেছি। এখানে পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি নির্মাণ করা আমার অঙ্গীকার।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বগুড়ায় আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরিচালনা সুবিধা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি, পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য ফ্লাইং একাডেমি এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বগুড়াকে একটি বড় এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ হলে দেশি-বিদেশি উড়োজাহাজ সহজেই অবতরণ করতে পারবে। পাশাপাশি কার্গো পরিবহন সুবিধা এবং পাইলট প্রশিক্ষণ একাডেমিও গড়ে তোলা হবে।
অন্যদিকে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়ন কাজও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এভিয়েশন গ্রুপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ভারতের সীমান্ত থেকে সরাসরি দূরত্বে প্রায় ২০ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে সেখানে একটি বড় হ্যাঙ্গার নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিমান বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া ও লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিকে বৃহৎ “কৌশলগত নিরাপত্তা অঞ্চল” পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে। বগুড়ায় রানওয়ের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে তুরস্ক, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা এবং ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা স্থাপন নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তিও করেছে। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাকিস্তানের মাধ্যমে চীনের তৈরি ২০টি চেংদু জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও সেই পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ দেশের সামরিক শিল্পকে রপ্তানিমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তুরস্ক ও কাতারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকল্প চলছে। পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজও এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু সামরিক সক্ষমতাই বাড়বে না, বগুড়া ও দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au