সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তেও প্রস্তুত: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
মেলবোর্ন, ১১ মে- দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন সহ্য করা হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ…
মেলবোর্ন, ১১ মে- জুলাই আন্দোলনের পর দায়ের করা একাধিক মামলায় সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আংশিক জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে সব মামলায় জামিন না হওয়ায় তারা আপাতত কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
সোমবার (১১ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত ফারজানা রুপাকে দায়ের করা ৬টি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে শাকিল আহমেদকে ৫টি মামলায় জামিন দেওয়া হয়। তবে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে থাকা একটি করে মামলায় জামিন না দিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। ফলে বিচারাধীন অবশিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
আদালতে সাংবাদিক দম্পতির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের করা একাধিক মামলায় শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে আসামি করা হয়েছিল। এসব মামলায় গ্রেপ্তারের পর তারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে জামিন আবেদন করা হলে সোমবার কয়েকটি মামলায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
শাকিল আহমেদ দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্ত্রী ফারজানা রুপা একই প্রতিষ্ঠানে প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেশের টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ হিসেবে কাজ করেছেন।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ৮ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর বিভিন্ন ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ২১ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন বলে জানা যায়। বিমানবন্দর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এখনও যেসব মামলায় জামিন মেলেনি, সেসব মামলার শুনানি শেষে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর তাদের মুক্তির বিষয়টি নির্ভর করবে। অন্যদিকে সাংবাদিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, আলোচিত এই মামলাগুলো গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে হাইকোর্টের সোমবারের আদেশের পর আদালতপাড়ায় সাংবাদিক দম্পতির স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও সব মামলায় জামিন না হওয়ায় অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au