সংখ্যালঘু নির্যাতন হলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তেও প্রস্তুত: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
মেলবোর্ন, ১১ মে- দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন সহ্য করা হবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ…
মেলবোর্ন, ১১ মে- পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার কলকাতার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সদ্য শপথ নেওয়া মন্ত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” এ বিষয়ে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। তবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যেই এসব সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও মৃত ব্যক্তির নামেও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তোলা হয়েছে। নতুন সরকার এই অনিয়ম বন্ধে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করবে বলে জানান তিনি।
প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা, পিএম শ্রী, বিশ্বকর্মা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। এখন সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি কেন্দ্রীয় সুবিধা পায়, সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” জেলাশাসকদের দ্রুত আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০১৫ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত বড় ধরনের সরকারি নিয়োগ হয়নি। ফলে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতী বয়সসীমা পেরিয়ে গেছেন। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বয়সসীমা পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।” বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস কার্যকর করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকার পুরোনো আইপিসি ও সিআরপিসির ধারা কার্যকর রাখলেও এখন নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় প্রশাসন পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় যুক্ত হলো।”
প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজ্যের আইএএস কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী সোমবার আবারও মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সেখানে আরজি কর হাসপাতাল ইস্যু, নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, বেতন কমিশন, মহার্ঘ্য ভাতা এবং বকেয়া এরিয়ার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিনি বলেন, “এই সরকার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়। তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যায়ক্রমে আলোচনায় আনা হবে।”
বৈঠকে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত বিজেপি কর্মীদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জন কর্মীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। যারা হত্যার বিচার চান, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেন। প্রথমে তিনি রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। পরে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বিকেলে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া বিকেল চারটায় নবান্নেই বিজেপির জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই প্রশাসনিক পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au