মেলবোর্ন, ১১ জুন- যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ২২টি দেশ যৌথভাবে ইরানকে তাদের ভূখণ্ডে কথিত হামলা, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রকাশিত এই যৌথ বিবৃতিকে তেহরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যতম শক্ত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে মানুষ হত্যা, অপহরণ, নজরদারি বা ভয় দেখানোর মতো কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। এসব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং এর বিশেষ বৈদেশিক শাখা কুদস ফোর্স বিভিন্ন দেশে ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি, সাংবাদিক, ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে বলেও দাবি করেছে দেশগুলো।
২২ দেশের জোট আরও জানিয়েছে, নিজেদের নাগরিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, উত্তর মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া ও আলবেনিয়া।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বিবৃতি নতুন তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো সমন্বিত বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে তেহরান এ ধরনের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সুত্রঃ এএফপি