৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ জুন- ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু দল ও ম্যাচসংখ্যার কারণেই নয়, ব্যতিক্রমী উদ্বোধনী আয়োজনের কারণেও ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিতে যাচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো তিনটি ভিন্ন দেশে, তিনটি ভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এতদিন একটি দেশ কিংবা যৌথ আয়োজক থাকলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হতো একটিই। তবে ২০২৬ আসরে আয়োজক তিন দেশ নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন বিশ্বকাপকে আরও বৈচিত্র্যময় ও বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত করবে।
প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে শুরু হবে জমকালো অনুষ্ঠান। মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও শিল্পকলার নানা দিক তুলে ধরা হবে সেখানে। দর্শকদের জন্য থাকছে ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য এবং জনপ্রিয় ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের বিশেষ প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরীয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়। এছাড়া আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, মানা ও লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলসসহ লাতিন সংগীত জগতের আরও অনেক তারকা অংশ নেবেন।
দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে। সেখানে স্বাগতিক কানাডা খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। কানাডার ইতিহাস, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ এবং জাতীয় অর্জনগুলো তুলে ধরা হবে বিশেষ আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশনার মাধ্যমে।
কানাডার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে এবং জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। এছাড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়সহ আরও কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
তৃতীয় ও সবচেয়ে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে। সেখানে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশাল ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী এবং গল্পভিত্তিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে ফুটবল, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক অনন্য সমন্বয় তুলে ধরা হবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলারের মতো তারকারা। আয়োজকরা আশা করছেন, এই অনুষ্ঠান বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় উদ্বোধনী আয়োজনে পরিণত হবে।
বিশ্বকাপের তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ। অলিম্পিকসহ একাধিক বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি জানিয়েছেন, তিনটি আয়োজনের ধরন আলাদা হলেও মূল বার্তা হবে একটাই—ফুটবল, সংস্কৃতি ও মানবিক সম্প্রীতির মাধ্যমে বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করা।
বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে তিন আয়োজক দেশেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ইতিহাসের প্রথম ত্রিদেশীয় বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, আয়োজন ও উদযাপনেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে।