মেলবোর্ন, ১১ জুন- ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার পর উদ্ধার অভিযান চললেও এখনো একজন নাবিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতীয় সিমেন্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, নিহত দুই নাবিক হলেন ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা এবং ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া। অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছেন জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী পাটনালা সুরেশ। উদ্ধারকারী দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো তার সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হামলার শিকার হওয়া ট্যাংকার ‘সেত্তেবেলো’তে মোট ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনজন নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকারটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করে আন্তর্জাতিক অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল। এ কারণে জাহাজটিকে থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্দেশনা না মানায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ লক্ষ্য করে ‘প্রিসিশন-গাইডেড মুনিশন’ বা অত্যাধুনিক নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়।
মার্কিন বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে। তবে হামলার বৈধতা এবং এতে বেসামরিক নাবিকদের প্রাণহানির বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার পর নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ভারত সরকার দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জেসন মিকসকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং নিরীহ নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, এর মাত্র দুই দিন আগে ওমান উপকূলেই আরেকটি তেলবাহী জাহাজ ‘মারিভেক্স’-এ হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই জাহাজ থেকেও ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
নিখোঁজ প্রধান প্রকৌশলী পাটনালা সুরেশের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা এখনো আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছেন, তিনি জীবিত অবস্থায় ফিরে আসবেন।