মিয়ানমারে মার্কিন দূতাবাস। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ জুন- মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে এক মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় একজন থাই নারীকে আটক করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার এক বিবৃতিতে ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একজন কূটনীতিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে নিহতের নাম, পদবি কিংবা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবার ও স্বজনদের গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে ওয়াশিংটন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত কূটনীতিকের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত এ বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তবে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুন শহরের একটি অভিজাত হোটেল থেকে ওই কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হোটেলটি দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের সুবিধা থাকায় বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, মিয়ানমার পুলিশ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে দেশটির পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
ঘটনার পর একজন থাই নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে কিংবা ঘটনার সঙ্গে তার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে আটক নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তারা আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন বিদেশি কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, আটক নারীর ভূমিকা এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।