রাজশাহীর পবায় শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াতের রোকন আটক
মেলবোর্ন,০১আগস্ট: রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছি ইউনিয়নের একটি…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিন ধরে চলা জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব এবার ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্দরমহলেও পৌঁছেছে। শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরই নয়, বিজেপির একাধিক বর্তমান ও সাবেক নেতার সন্তানও প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এতে দলটির ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে বিজেপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পুলিশের কঠোর দমননীতির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।
তবে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন আসাম সরকারের মন্ত্রী কেশব মহন্ত, ওড়িশার বিজেপি সংসদ সদস্য অপরাজিতা সরঙ্গি এবং উত্তর প্রদেশের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের সন্তানদেরও আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে জেন-জি আন্দোলনের প্রভাব এখন রাজনৈতিক পরিবারগুলোর ভেতরেও পৌঁছে গেছে।
আসাম সরকারের রাজস্বমন্ত্রী এবং বিজেপির শরিক দল অসম গণ পরিষদের (এজিপি) জ্যেষ্ঠ নেতা কেশব মহন্তের কন্যা দিবিসা মহন্ত গুয়াহাটিতে জেন-জি আন্দোলনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে অংশ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন দিবিসা। তিনি বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও সহিংসতা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার প্রশংসাও করেন।

যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভে জেন জি
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ব্যক্তিগত মতামতের জন্য বাবা-মাকে দায়ী করা যায় না।
তিনি বলেন, “আমার নিজের সন্তান কিংবা ভাইও অনেক বিষয়ে আমার সঙ্গে একমত নয়। আমার মেয়ে বা ছেলে যদি ভবিষ্যতে ভিন্ন মত প্রকাশ করে, সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমি মনে করি, আমার মন্ত্রীর মেয়ের বক্তব্য সঠিক নয় এবং সুযোগ হলে আমি তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।”
উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর সদর আসনের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের কন্যা যশস্বিনী রাজে সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদত্যাগপত্রে অনুশোচনা বা জবাবদিহিতার কোনো ভাষা নেই। বরং সেটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যেন তাঁকে একজন শহীদ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেন-জি আন্দোলনের অন্যতম বড় সাফল্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম, মিম এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ তরুণদেরও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারা।
যশস্বিনী বলেন, তিনি আর্থিকভাবে স্বাধীন এবং বহু বছর ধরেই নিজের মতো করে বসবাস করছেন। তাই রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নিজের মতামত প্রকাশে তিনি কোনো সংকোচ বোধ করেন না।
ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরের বিজেপি সংসদ সদস্য অপরাজিতা সরঙ্গির কন্যা অর্চিতা সচিন রাহার একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি ঘিরেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি ভারতের জাতীয় পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে একটি পোস্টে লেখেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন।
এই পোস্ট প্রকাশের পর বিজেপির একাধিক নেতা তীব্র সমালোচনা করেন। ওড়িশার বিজেপি নেতা জগন্নাথ প্রধান বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান রাজ্যের গর্ব এবং তাঁর বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, অপরাজিতা সরঙ্গির উচিত বিষয়টি নিয়ে জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া।
পরবর্তীতে অর্চিতা আরেকটি পোস্টে দাবি করেন, তাঁর আগের স্টোরি মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হতে পারে, কিন্তু তিনি সেটি সরাবেন না। যদিও পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিজেপি নেতা অপরাজিতা সরঙ্গি।ছবিঃ সংগৃহীত
এ প্রসঙ্গে অপরাজিতা সরঙ্গি বলেন, তাঁর মেয়ে জেন-জি প্রজন্মের একজন তরুণী। বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করার উদ্দেশ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে পোস্টটি প্রকাশিত হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে সে পরে পোস্টটি মুছে দেয়।
অন্যদিকে অপরাজিতা সরঙ্গি নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে “নৈতিক সাহসের পরিচয়” বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জেন-জি আন্দোলনের শুরু থেকেই বিজেপির প্রবীণ নেতা মুরলী মনোহর যোশী আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “নারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের নৃশংস বলপ্রয়োগ দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।”
তাঁর এই বক্তব্য দলীয় অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি আন্দোলন শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ভারতের রাজনৈতিক পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক এই আন্দোলনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রথাগত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সচেতনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারবার বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ব্যক্তিগত মতামতকে তাঁদের পরিবারের বা দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তা সত্ত্বেও দলটির প্রভাবশালী নেতাদের সন্তানদের প্রকাশ্য সমর্থন ভারতের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং জেন-জি আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au