সবশেষ মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- ঢাকার বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন হয়েছে এবং তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। পরে তাঁকে বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই মামলায় আজ হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছেন।
আইনজীবীদের দাবি, বনানী থানার মামলায় জামিন পাওয়ার মধ্য দিয়ে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাঁর কারামুক্তিতে এখন আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে মোট আটটি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। পরে ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর ২ জুলাই চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন।
খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল আবেদন করেন। পরে গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাঁকে নতুন করে ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হলে তাঁদের ওপর গুলি চালানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশ ও মদদে পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে খোয়াইব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাঁকে একে একে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১১ সালের মে মাসে তিনি অবসরে যান। তাঁর আমলেই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায়সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।