গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, দুই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে একটি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন, যাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। এরপর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১ জন, ধাদিংয়ে ১৮ জন, চিতওয়ানে ৩৩ জন, গোর্খায় ১৯ জন, তানাহুঁতে সাতজন এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ রয়েছে। অন্যান্য এলাকায়ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৬১ জন নেপালি এবং ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ বিদেশিরা অন্তত ২৬টি দেশের নাগরিক।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। ট্যুর অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, সীমান্তের উভয় পাশে নিখোঁজদের সন্ধানে জোরদার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত এবং ওই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভ্রমণরত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া জেলাতেও ভয়াবহ বন্যা আঘাত হেনেছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
শিশির খানাল আরও জানিয়েছেন, নেপালের পাশাপাশি চীনও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কল্পনারও বাইরে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
চীন-নেপাল সীমান্তের ভাটির দিকে থাকা কয়েকটি জেলা বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভোতেকোশী নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি জনবসতিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এসব এলাকা তুলনামূলকভাবে জনবিরল হলেও নেপাল-চীন বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ এখান দিয়ে গেছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে মহাসড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধসে পড়েছে। ফলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে। নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুত্রঃবিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au