গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে আগুন, দুই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে একটি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট: জাতভিত্তিক বৈষম্য কমাতে ভারতের হিমাচল প্রদেশের স্কুলগুলোর ভর্তি ফর্ম থেকে ‘জাত’ কলাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলগুলোতে নতুন ভর্তি ফর্মে শিক্ষার্থীদের জাতের পরিচয় জানতে চাওয়া হবে না।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু রাজ্যের তফশিলি জাতি কল্যাণ বোর্ডের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় এ নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু বলেন, সমাজ থেকে জাতভিত্তিক বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সমতার মনোভাব গড়ে তুলতে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্কুলের ভর্তি ফর্ম থেকে জাতের কলাম বাদ দেওয়া সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে জাতভিত্তিক বিভাজন ও হীনম্মন্যতার ধারণা তৈরি হওয়া ঠেকানো প্রয়োজন। ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতের পরিচয় জানতে না চাওয়া হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশ তৈরিতে তা ভূমিকা রাখবে।
তবে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প, সংরক্ষণ সুবিধা বা অন্যান্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তফশিলি জাতির সদস্যদের জাতসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নথিতে জাতের পরিচয় সংরক্ষণ করা হবে।
হিমাচল প্রদেশ সরকার জানিয়েছে, তফশিলি জাতির মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের কল্যাণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। যোগ্য সুবিধাভোগীরা যাতে এসব সরকারি সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারেন এবং যথাযথভাবে তা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু আরও জানান, আর্থিক সংকটের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকার বিশেষ ঋণ সুবিধা দিচ্ছে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা মাত্র এক শতাংশ সুদের হারে সর্বোচ্চ ২০ লাখ রুপি পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ নিতে পারবেন।
এ ছাড়া দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ‘আপনা পরিবার সুখী পরিবার যোজনা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে মাসে সর্বোচ্চ ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব পরিবারের নারীদের প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পেনশন দেওয়ার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জাতভিত্তিক বৈষম্য কমাতে এর আগে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যেও জাতপ্রথার কারণে সৃষ্ট বৈষম্য মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সংবিধানে জাতের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ হলেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক জীবনে জাতপ্রথার প্রভাব এখনো রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নিম্নবর্ণের মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে পৃথকীকরণ এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা ব্যবহারে বাধার অভিযোগ রয়েছে। এমন বাস্তবতায় শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই জাতের পরিচয়কে সামনে না আনার হিমাচল প্রদেশের সিদ্ধান্তকে বৈষম্য কমানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au