সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা নিহত, গ্রেপ্তার ২
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে পড়ে এক শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় ছিনতাইয়ে…
বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের পর হুলিয়ান আলভারেজের সঙ্গে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের সম্পর্ক এখন বেশ অস্বস্তিকর। তবে স্প্যানিশ ক্লাবটি তাকে বিক্রি করতে রাজি নয়। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে আলভারেজকে রেখেই নতুন মৌসুম শুরু করতে হতে পারে অ্যাতলেতিকোকে। এখন বড় প্রশ্ন, ক্লাবের সঙ্গে টানাপোড়েনের পরও আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ডকে কীভাবে পুরো মৌসুমে মনোযোগী রাখা হবে।
গত সপ্তাহে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর অ্যাতলেতিকোর খেলোয়াড়রা সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে মাঠের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু সেখানে ছিলেন না আলভারেজ। তিনি একাই মাঠ ছাড়েন। এমনকি সমর্থকদের কাছ থেকে তাকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
এর আগে অ্যাতলেতিকোর সমর্থকরাও আলভারেজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় ম্যাচ চলাকালে তাকে দুয়ো ও বিদ্রূপের মুখে পড়তে হয়। ফলে একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিয়ে ক্লাব, সমর্থক ও খেলোয়াড়ের মধ্যে তৈরি হওয়া এই দূরত্ব এখন অ্যাতলেতিকোর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৪ সালে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আলভারেজকে দলে ভেড়াতে অ্যাতলেতিকো সর্বোচ্চ প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করেছিল। এরপর থেকেই কোচ দিয়েগো সিমিওনের আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন তিনি। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।
আলভারেজকে বাদ দিয়ে অ্যাতলেতিকোর জন্য সহজ কোনো ফুটবলীয় সমাধানও নেই। তিনি মূল স্ট্রাইকার হিসেবে যেমন খেলতে পারেন, তেমনি মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সংযোগ তৈরির জন্য কিছুটা নিচে নেমেও খেলতে পারেন। অন্য ফরোয়ার্ডের পাশেও তাকে কার্যকর দেখা যায়। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে নিজের গতিশীলতা ও মুভমেন্টের মাধ্যমে জায়গা তৈরি করাও তার অন্যতম বড় শক্তি।
তাই আলভারেজ শেষ পর্যন্ত অ্যাতলেতিকোতে থেকে গেলে কোচ দিয়েগো সিমিওনের জন্য তাকে নিয়মিত খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ক্লাব ছাড়তে চাওয়া সেই একই আলভারেজকে কি আবার আগের মতো মনোযোগী ও কার্যকর অবস্থায় পাওয়া যাবে?
সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সবচেয়ে সহজ পথ হতে পারে গোল। আলভারেজ যদি নিয়মিত গোল করেন, পরিশ্রম করেন এবং বড় ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখান, তাহলে সাম্প্রতিক দুয়ো ধীরে ধীরে করতালিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এর উল্টো ঘটনাও ঘটতে পারে। গোলের সুযোগ নষ্ট করা, খারাপ পারফরম্যান্স কিংবা মাঠে হতাশা প্রকাশ করলে আবারও সামনে আসতে পারে তার দলবদলের প্রসঙ্গ।
সেক্ষেত্রে আলভারেজকে শুধু অ্যাতলেতিকোর ৯ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং ‘দল ছাড়তে চাওয়া খেলোয়াড়’ হিসেবেও বিচার করতে পারেন সমর্থকেরা। এতে দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পড়বে দিয়েগো সিমিওনের ওপর। তাকে একদিকে আলভারেজের গুরুত্ব ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে দলের ভেতরে দলবদল নিয়ে চলা আলোচনা যেন দীর্ঘমেয়াদি বিভ্রান্তির কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ট্রান্সফার নিয়ে মতবিরোধের কারণে দলের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে হারানো যেমন অ্যাতলেতিকোর জন্য ক্ষতিকর, তেমনি তাকে রেখে দিয়েও যদি মনোযোগ ফেরানো না যায়, সেটিও বড় সমস্যা।
অ্যাতলেতিকোর ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির একটি উদাহরণ রয়েছে। আন্তোয়ান গ্রিজমান একসময় বার্সেলোনায় যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে অ্যাতলেতিকোর সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে তিনি বার্সেলোনায় যোগ দেন। তবে ২০২১ সালে আবার অ্যাতলেতিকোতে ফিরে এসে ধীরে ধীরে সমর্থকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন।
তবে আলভারেজের পরিস্থিতি গ্রিজমানের চেয়ে ভিন্ন। গ্রিজমান শেষ পর্যন্ত নিজেই অ্যাতলেতিকোতে ফিরে এসেছিলেন। আর আলভারেজ থেকে গেলে সেটি হবে অ্যাতলেতিকোর তাকে বিক্রি করতে অস্বীকৃতির ফল।
এদিকে আলভারেজের প্রতি আগ্রহ রয়েছে অন্য ক্লাবগুলোরও। বার্সেলোনা তাকে এখনও পছন্দের ৯ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করছে। রবার্ট লেভানডোভস্কি ও ফেরান তোরেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবর্তনের পর আক্রমণভাগে নতুন বিকল্প খুঁজছে কাতালান ক্লাবটি। অন্যদিকে আর্সেনাল ও কোচ মিকেল আরতেতার পরিকল্পনার সঙ্গেও আলভারেজের নাম জড়িয়েছে।
তবে বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা সময়। অ্যাতলেতিকো আলোচনায় বসতেই আগ্রহী না হওয়ায় ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে আলভারেজকে দলে নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। আর আর্সেনালের ক্ষেত্রে বিষয়টি নির্ভর করতে পারে ইংল্যান্ডে যাওয়ার ব্যাপারে আলভারেজের নিজের আগ্রহের ওপর।
শেষ পর্যন্ত ট্রান্সফার বাজারে অ্যাতলেতিকোর অবস্থান সফল হলেও আসল পরীক্ষা হবে মাঠে। আলভারেজকে সতীর্থ, কোচ এবং সমর্থকদের বোঝাতে হবে যে তিনি ক্লাবটির হয়ে পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে খেলতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সিমিওনেকে তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে হবে, যাতে তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক প্রমাণিত হয়।
সবশেষে, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর পথ একটাই, আলভারেজকে মাঠে পারফর্ম করতে হবে। গোল ও ভালো পারফরম্যান্স দিয়েই তিনি অ্যাতলেতিকোর সমর্থকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমাতে পারেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au