মাত্র ২ কোটি বাজেটে ২০০ কোটি ছাড়াল ‘হনুমান আংশ’।ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ভক্তিমূলক সিনেমা ‘হনুমান আংশ’ ভারতীয় বক্স অফিসে রীতিমতো ইতিহাস তৈরি করেছে। খুব বেশি প্রচার ছাড়াই ছবিটি আয় করেছে ২০০ কোটির বেশি রুপি। এর মধ্য দিয়ে এটি ভারতের সবচেয়ে কম বাজেটে নির্মিত সিনেমা হিসেবে ২০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করেছে।
আধ্যাত্মিক গুরু নিম কারোলি বাবাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘হনুমান আংশ’ মুক্তির শুরুতে অবশ্য তেমন সাড়া পায়নি। প্রথম দিনে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ১০ লাখ রুপি। এমনকি মুক্তির দুই সপ্তাহ পরও সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ৪৮ কোটি রুপি।
তবে এরপরই বদলে যায় ছবিটির ভাগ্য। দর্শকদের মুখে মুখে সিনেমাটির প্রশংসা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে হলমুখী দর্শকের সংখ্যা। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম সপ্তাহে ছবিটি বক্স অফিসে অসাধারণ ব্যবসা করে। শুধু চতুর্থ সপ্তাহেই সিনেমাটি আয় করে ৬১ কোটি রুপি। আর পঞ্চম সপ্তাহে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৯০ কোটি রুপি।
মুক্তির ৩৬তম দিনে, অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবারও ছবিটির ব্যবসায় ছিল বড় চমক। ওই দিন ভারতে সিনেমাটি ১০ দশমিক ৫০ কোটি রুপি নেট আয় করে। এর ফলে মুক্তির এতদিন পর প্রথমবারের মতো ভারতীয় বক্স অফিসের দৈনিক আয়ে শীর্ষস্থান দখল করে ‘হনুমান আংশ’।
শুক্রবার নতুন মুক্তি পাওয়া ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’কেও পেছনে ফেলে দেয় ছবিটি। ওই দিন ‘মির্জাপুর দ্য মুভি’ আয় করে ৯ দশমিক ৫০ কোটি রুপি। অন্যদিকে অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খান অভিনীত ‘হাইওয়ান’ প্রথম দিনে আয় করে মাত্র ৩ কোটি রুপি। ফলে দুই সিনেমাকেই পেছনে ফেলে দিনের সেরা আয়কারী সিনেমা হয়ে ওঠে ‘হনুমান আংশ’।
ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক শোকাহত তরুণকে ঘিরে। জীবনের গভীর সংকটের মধ্যে ঈশ্বরের সন্ধানে উত্তর ভারতে আধ্যাত্মিক যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে সে। সেই যাত্রাপথে তার জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। একপর্যায়ে সে পরিণত হয় একজন শ্রদ্ধেয় সাধুতে।
বাজেটের তুলনায় সিনেমাটির বিপুল আয় ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বড় তারকা, বিশাল প্রচার কিংবা বিপুল বাজেট ছাড়াও দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া এবং মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে একটি সিনেমা যে বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে, ‘হনুমান আংশ’ তারই বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মাত্র ২ কোটি রুপি বাজেটের এই সিনেমার ২০০ কোটি রুপির বেশি আয় তাই শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, ভারতীয় সিনেমার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম চমকপ্রদ বক্স অফিস সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।