তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ১৯ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল।
নিহত হুমায়ুন কবির রায়েরমহল এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তাঁর দলীয় পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যায় রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের রেস্তোরাঁয় বসে ছিলেন হুমায়ুন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় জানান, কয়েক দিন আগে নগরের মোস্তফার মোড়ের আরাফাত নামের এক দোকানির কাছ থেকে একটি রেফ্রিজারেটর কিনেছিলেন হুমায়ুন। এর কিছু টাকা বকেয়া ছিল। রোববার সন্ধ্যায় আরাফাত ও তাঁর ভাই সেই টাকা চাইতে গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা সেখান থেকে চলে গিয়ে সহযোগীদের নিয়ে ফিরে আসেন এবং হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে হুমায়ুনের অন্য কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এর আগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরা এলাকার দরগা কাশেমিয়া মসজিদ-সংলগ্ন সড়ক থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সড়কের ওপর তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাঁকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ সড়কে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত ২২ অক্টোবর ভোরে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে। এ ছাড়া ২৯ মে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বেবি বেগম (৬০), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৪) ও মুস্তাকিন (৪) খুন হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধের মতো কারণ রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।