বাংলাদেশ

গুলি করেন তাজুল, আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তি

  • 12:56 pm - November 02, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৬ বার
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তাজুল ইসলাম। সরাসরি পাঁচজন এতে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে তাজুল নিজেই পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) ও সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। বিকেল পৌনে চারটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটায় তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয়। পরে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ রোববার রাতে বলেন, দুই আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়। আসামিরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন। সীমান্ত এলাকায় তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা ছিল। এসব ব্যবসায় আলিফ বাধা দিতেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতেন বলে তাঁদের ক্ষোভ ছিল।

ওসি আরও জানান, আসামিদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি পাঁচজন অংশ নেন। তাজুল পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে লোকজন আসতে শুরু করলে তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আপাতত তাঁদের নাম গোপন রাখা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সঙ্গেও তাঁর বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় নিজের নামে একটি অপরাধী বাহিনী পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা, যিনি খাদিজা আক্তার নামেও পরিচিত, এর আগে জানিয়েছিলেন, তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পেয়ে আলিফ তা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) জানিয়েছিলেন। প্রায় চার বছর আগে তাজুলকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব, বর্তমানে যার নাম স্পেশাল র‍্যাপিড ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, তাজুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন আলিফ। তাজুলের বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাজুলের ধারণা ছিল, তাঁর কাছে থাকা অস্ত্রের তথ্যও আলিফ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকে এর আগেও আলিফের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

গত শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। তাঁদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আলিফের স্ত্রী

এদিকে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। বর্তমানে দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকছেন আনন্দিতা।

গারো সম্প্রদায়ের এই নারী আলিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তাঁর নাম রাখা হয় খাদিজা আক্তার।

আনন্দিতা সাংমা বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর একজন নারী তাঁকে ফোন করে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ব্যাংক হিসাবের নম্বর চান। এরপর আরও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে চাকরির ব্যবস্থা হওয়ায় আপাতত অন্য কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাজুল ইসলাম, শুটার শামীমসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বামীকে আর ফিরে পাবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা তাঁর স্বামীকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং দুই সন্তানকে এতিম করেছে, তাঁদের শাস্তি দেখে যেতে চান। তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এই শাখার আরও খবর

অহিংস থেকে সহিংস আন্দোলনে শ্রমিকরা, কী ঘটতে যাচ্ছে ঢাকায়?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন রোববার (১ নভেম্বর) হঠাৎ সহিংস রূপ নেয়। রাজধানীর মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের…

নীলফামারীতে জুলাই-আগস্টে নিহতের ঘটনা নেই, তবু হত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসাদুজ্জামান নূর

বিএনপির বর্তমান সরকারের সমর্থনপুষ্ট বিচারব্যবস্থা ও জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক ডেভিড বার্গম্যান। অভিনেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ…

বাঁশখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা জানিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১…

খুলনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের আড়ংঘাটা থানার…

প্রতিবাদের মুখে বাংলাদেশে ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ

ওটিএন বাংলা: ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে বাংলাদেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে ৫২৯টি কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। রবিবার, ১ নভেম্বর এসব কারখানায়…

টানা সাত মাস কমল অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ির দাম

ওটিএন বাংলা, মেলবোর্ন: অস্ট্রেলিয়ার আবাসনবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। অক্টোবরে জাতীয় পর্যায়ে আবাসিক সম্পত্তির মূল্য আরও ১.২ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা সাত মাস দাম কমল।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au