নেপাল পালানোর পথে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান
মেলবোর্ন, ৯ জুন- পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে বহুল আলোচিত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার নেপালে পালানোর চেষ্টা করার…
মেলবোর্ন, ০৭ মে— ভারতের হামলার পর প্রতিবেশী দেশটিতে পাল্টা হামলা চালাতে সেনাবাহিনীকে অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি)।
বুধবার এক বৈঠকের পর সেনাবাহিনীকে ‘যে কোনো সময়, স্থান এবং পদ্ধতিতে’ ব্যবস্থা গ্রহণের এই অনুমতি দেওয়া হয়।
গত রাতে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর আঘাতের পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কিছু বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। তবে ভারত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে।
এনএসসি বিবৃতিতে বলেছে, “৬/৭ মে ২০২৫ রাতে ভারতীয় সেনাবাহিনী একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সার্বভৌম ভূখণ্ডে, যার মধ্যে সিয়ালকোট, শাকারগড়, মুরিদকে এবং বহওলপুর পাঞ্জাবে, কোটলি ও মুজাফফরাবাদ আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে অন্তর্ভুক্ত।”
এসব হামলায় নির্দোষ পুরুষ, নারী ও শিশু নিহত হয়েছে এবং মসজিদসহ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।
এনএসসি বলছে, “ভারতীয় আক্রমণটি বাণিজ্যিক বিমানের জন্যও বিপদ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভ্রাতৃপ্রতিম উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছে, যা হাজার হাজার যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে।”
নিলুম-ঝেলম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটিকেও আক্রমণ করা হয়েছে জানিয়ে একে ‘আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন’ বলা হয়।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। বিশেষ করে, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধ এবং সীমান্তে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।
সেই ঘটনার পর মঙ্গলবারবার গভীর রাতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর এলাকায় ভারতের একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ছড়ায়। এরপর ইসলামাবাদ থেকে পাল্টা দাবি উঠে—ভারতের একটি রাফালে ও একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে দুই পক্ষের দাবি-প্রতিদাবির নানা ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। কোথাও ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান, কোথাও বিস্ফোরণ বা গুলিবর্ষণের দৃশ্য, আবার কোথাও এলওসি সংলগ্ন গ্রামবাসীদের আতঙ্কিত অবস্থার ছবি দেখা যাচ্ছে। তবে এসব ভিডিওর কোনটি সত্য, কোনটি গুজব—তা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সকালে বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ মারুফ একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন, তার দেশের বিমান বাহিনী দুটি ভারতীয় মিগ টোয়েন্টিনাইন, একটি সুখোই থার্টি এবং দুটি রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে জানানো হয়, পাকিস্তানের এমন বক্তব্য ‘ভিত্তিহীন’ এবং তাদের কোনো বিমান ধ্বংস হয়নি।
এনএসসি ভারতীয় আক্রমণগুলোকে ‘অযৌক্তিক, কাপুরুষোচিত এবং বেআইনি যুদ্ধক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রয়েছে।”
এনএসসি জানায়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতীয় ৫টি যুদ্ধবিমান এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং পাকিস্তান ভবিষ্যতে আরও প্ররোচনা হলে সেগুলোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অবশ্য পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ চৌধুরী ব্রিফিং করে বলেছেন, তার দেশে ভারতের কোনো যুদ্ধবিমান প্রবেশ করেনি।
তিনি বলেন, “কোনো সময়েই তাদের (ভারতের) কোনো বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং একইভাবে কোনো সময়েই পাকিস্তানের কোনো বিমান ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।”
পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি থাকার বিষয়ে ভারত যে অভিযোগ করেছে, তাও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের এনএসসি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী ক্যাম্প থাকার বিষয়ে ভারতীয় দাবির বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান।”
এনএসসি লিখেছে, গত ২২ এপ্রিলের ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তান একটি ‘সৎ, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের’ প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ভারত গ্রহণ করেনি।
সেই হামলায় ২৬ জন নিহতের পর এই ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে। পাকিস্তান এই অভিযোগ নাকচ করে গত ৬ মে ২০২৫ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদেরকে কথিত সেই সব ‘জঙ্গি ক্যাম্প’ পরিদর্শন করায়। পরের দিন আরও পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল।
এনএসসির বিবৃতিতে লেখা হয়, “ভারত তাদের দাবির মিথ্যাতা প্রকাশ পাবে এমন আশঙ্কায় এবং তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকার কারণে ভারতীয় নেতৃত্ব এখন নির্দোষ বেসামরিক নাগরিকদের আক্রমণ করতে গিয়ে তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au