নেপাল পালানোর পথে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান
মেলবোর্ন, ৯ জুন- পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে বহুল আলোচিত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার নেপালে পালানোর চেষ্টা করার…
মেলবোর্ন, ৮ মে- ভারতের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পাকিস্তান করাচি, লাহোর ও শিয়ালকোট বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) লাহোরে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ)।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, লাহোর ও শিয়ালকোট বিমানবন্দরে দুপুর ১২টা (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকবে।
পাকিস্তানের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
লাহোরের পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতীয় একটি ড্রোন পাকিস্তানের ওয়ালটন বিমানবন্দরের কাছে ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ-ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের এই ড্রোনটি সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।

লাহোরে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন ধ্বংস।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ড্রোনটির সিস্টেম জ্যাম করে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। এতে বিস্ফোরক বসানো ছিল। ড্রোনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এই ঘটনার পরই বিমানবন্দর বন্ধের সিদ্ধান্ত এলো।
গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার রাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান চালায়।
বুধবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল কুরেশি জানান, অভিযানের প্রথম লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের ভেতরে শিয়ালকোটের কাছের সারজাল ক্যাম্প। সেখানে ২০২৫ সালের মার্চে জম্মু-কাশ্মীরের চার পুলিশ সদস্যকে হত্যায় অভিযুক্ত জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলে ভারতের দাবি।
তিনি জানান, অভিযানে জইশ-ই-মোহাম্মদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে।
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং বলেন, “২২ এপ্রিলের সেই ভয়াবহ হামলার বিচার নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। যাতে নিহতদের পরিবার ন্যায্যতা ও কিছুটা সান্ত্বনা পায়।”
ভারতের দাবি, লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মুহাম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত মোট ৯টি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে চারটি পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে—বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, সারজাল ও মেহমুনা জোয়া। বাকি পাঁচটি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে।
ভারতের কর্মকর্তারা বলেন, পাকিস্তানে এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে গত তিন দশকে অন্তত ২১টি জঙ্গি রিক্রুটমেন্ট ও ব্রেইনওয়াশিং সেন্টার তৈরি হয়েছে।
এই গোপন অভিযান পরিচালনায় অংশ নেয় ভারতের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। অভিযানটি চালানো হয় বুধবার ভোররাতে ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে।
ভারতের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ‘বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই’ এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের বিষয়ে কর্নেল কুরেশি আরও বলেন, “কোনো সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়নি এবং এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে বেসামরিক হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au