ইসলামাবাদ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে অস্পষ্টতা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো অবস্থান পাওয়া…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই-
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ওষুধের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই ঘোষণায় অস্ট্রেলিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ান ওষুধের একটি বড় বাজার, যেখানে বছরে প্রায় ২.১ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।
অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানি ওষুধের মধ্যে রক্তের প্লাজমা পণ্য সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে। এই পণ্যের একটি বড় অংশ আমেরিকায় রপ্তানি হয় এবং দেশটির বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শুল্কের কারণে এ খাতে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এত বড় শুল্ক আরোপ হলে শুধু রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং দেশের ভেতরেও ওষুধ উৎপাদন ও গবেষণার সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়বে। ওষুধের দাম বাড়বে, যা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপ ফেলবে।
ট্রাম্পের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম (PBS) যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কারণ PBS-এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রিত থাকে। তবে অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে PBS-এ কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
শুল্ক আরোপের হুমকির পর অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস দেখা না গেলেও ওষুধ শিল্পের নেতারা বলছেন, বাজারে আতঙ্ক আছে। বিশেষ করে রপ্তানি কমে গেলে দেশে নতুন ওষুধ উদ্ভাবন ও গবেষণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শুল্ক আরোপের আগে দুই থেকে আড়াই বছরের মতো সময় দেবেন, যাতে কোম্পানিগুলো বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানিগুলো মনে করছে, এই সময়ও যথেষ্ট নয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, PBS নিয়ে কোনো আপস হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এই শুল্কের হুমকি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। রপ্তানি নির্ভর এই খাতটি এমনিতেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে আছে, সেখানে নতুন শুল্ক এলে সেটি আরও বড় চাপ তৈরি করবে।
সবমিলিয়ে, ট্রাম্পের ঘোষণায় অস্ট্রেলিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প ও সরকারের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।
সুত্রঃ সেভেন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au