বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট- ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের বিরুদ্ধে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আলবানিজ ইসরায়েলকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার ইহুদিদের পরিত্যাগ করেছেন।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে তার সরকারের সিদ্ধান্তের একদিন পর, যখন তারা অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে বহিষ্কার করে। কারণ, অস্ট্রেলিয়া ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং কট্টর-ডানপন্থী ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ সিমচা রথম্যানকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবিঃ নাইন নিউজ
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সাআর সোমবার জানান, ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় কূটনীতিকদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তিনি অস্ট্রেলিয়াকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিযুক্ত করেন এবং ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও রথম্যানকে ভিসা না দেওয়াকেই দায়ী করেন।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সরকার ইসরায়েলকে আরও বিচ্ছিন্ন করছে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নষ্ট করছে।
অস্ট্রেলিয়া সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে অস্থিরতা বেড়ে গেছে।
নেতানিয়াহুর কড়া ভাষার সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বলেন, “আজকের গণতান্ত্রিক বিশ্বে নেতানিয়াহুর মতো সবচেয়ে বিষাক্ত নেতার সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করলে একজন নেতার মর্যাদা আরও বেড়ে যায়।”
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী কাটি গ্যালাঘার বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়নি। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ও শান্তির পথ তৈরির উদ্দেশ্যে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালু রাখতে চায়।
অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লেই অভিযোগ করেছেন, আলবানিজের নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই এই কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট করে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছেন দেশকে।
ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি ভয়াবহ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ২২ মাসের যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ সংখ্যা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা যায়।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় নতুন প্রস্তাবে রাজি হয়েছে হামাস। কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় করা এই প্রস্তাবে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হামাসের হাতে আটক কিছু বন্দির মুক্তির বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দি ছাড়া, গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি।
নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ পরাজিত ও নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি স্বীকার করেছেন, জিম্মিদের মুক্তির জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে নেবেন, তবে যুদ্ধ শেষ করবেন না।
সুত্রঃ নাইন নিউজ ও এপি