মেলবোর্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর- নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। নতুন পদক্ষেপে তাদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং পাইকারি দোকান ও বিলাসবহুল পণ্য কেনা থেকেও বিরত রাখা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ সৃষ্টি করা। তিনি অভিযোগ করেন, “যখন সাধারণ ইরানিরা দারিদ্র্য, ধ্বংসপ্রায় অবকাঠামো, পানি ও বিদ্যুতের ঘাটতির মতো সংকটে ভুগছে, তখন ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশে বিলাসবহুল কেনাকাটা ও সুবিধা উপভোগ করছে।”
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিরা এখন শুধু হোটেল থেকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সরকারি রুটেই চলাচল করতে পারবেন। এর বাইরে যাতায়াত নিষিদ্ধ। আগে তারা জাতিসংঘের অফিস, ইরানি মিশন, রাষ্ট্রদূতের বাসভবন ও জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরের মধ্যে যাতায়াত করতে পারতেন, যা এখন সীমিত করা হয়েছে।
২০১৭ সাল থেকে ইরানে দারিদ্র্য ও সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নিয়মিতভাবে দেখা যাচ্ছে। শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে, অর্থনৈতিক দুরবস্থা অব্যাহত থাকলে তাদের শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। যদিও তারা প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিচ্ছে, তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে কূটনীতিক আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় মিত্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
পিগট বলেন, “আমেরিকানদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে তার সন্ত্রাসী এজেন্ডা চালানোর সুযোগ বা জনগণকে বঞ্চিত করে বিলাসিতা উপভোগের সুযোগ দেব না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে উন্নত ভবিষ্যৎ ও জবাবদিহির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র : আল-অ্যারাবিয়া