মেলবোর্ন, ১৮ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হামাসকে দৃঢ় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গাজায় যদি অভ্যন্তরীণ হত্যাকাণ্ড ও দমন-নিষ্ক্রমণ চলতেই থাকে, “আমাদের কোনো উপায় থাকবে না আমরা ঢুকে গিয়ে তাদের নিধন করব।” পরে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিতে সৈন্য পাঠাবে না; তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আশেপাশে উপস্থিত কোনো নিয়মিত বা আঞ্চলিক অংশীদার এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে এবং তারা “আমাদের আশ্রয়ে” কাজ করবে।
এই হুঁশিয়ারি এসেছে সেই সময় যখন গাজায় সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি ও বন্দি বিনিময় কার্যক্রমের পর অঞ্চলটিতে গোষ্ঠীভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির সরাসরি প্রেক্ষাপট ছিল সাম্প্রতিক দিনে গাজায় ভেতরের সংঘর্ষে অনেকে নিহত ও লাশ ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে বিতর্ক। তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল ‘চুক্তির ধৃষ্ট লঙ্ঘন’ এবং তা অব্যাহত থাকলে কড়াকড়ি মেনে নেওয়ার ছাড়া পথ থাকবে না।
ট্রাম্প রিপোটারদের বলেন, “যদি হামাস গাজায় মানুষ হত্যা করে, যা চুক্তির অংশ ছিল না, তাহলে আমাদের বিকল্প থাকবে না আমরা ঢুকে গিয়ে তাদের মারব।” তবে পরে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটা হবে আমাদের দ্বারা নয়” অর্থাৎ আমেরিকান থলায় না ঢুকলেও, আঞ্চলিক অংশীদার বা ইসরায়েল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থন দেবে এধরনের ভাষ্য দিয়েছেন তিনি।
টমাহক (দীর্ঘ-পরিসরের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র) সরবরাহ নিয়ে জেলেনস্কির আশায় থাকা এবং ট্রাম্প-পুতিনের ফোনালাপের পর কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এ পরিস্থিতি ট্রাম্পের কথাকে জোরালো প্রভাবশালী করেছে। পুতিনও পরিষ্কার করে বলেছিলেন যে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ রাশিয়া-যুক্ত সম্পর্ককে অচল করে দিতে পারে; তাই ট্রাম্প সম্ভবত কৌশলগত ভারসাম্যের মধ্যে দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এই সব ভূরাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষিতে কিয়েভের কৌশলগত অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হামাসকে দমন বিষয়ে আগ্রহী থাকলেও তারা চুক্তির শর্ত ও আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্যেই কাজ করতে বলছে কারণ সরাসরি গাজায় নতুন অন্তর্বর্তী অভিযান তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবিক উদ্বেগ বাড়াবে। হামাস পদান্তরে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে তীব্র নিন্দা করেছে এবং এটিকে “বহিরাগত হস্তক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছে; পাশাপাশি তারা দাবি করেছে যে গাজায় যে অভ্যন্তরীণ সহিংসতা দেখা গেছে, তা নির্দিষ্ট অংশীদলের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যদি বাস্তবে কোন বাহ্যিক শক্তি গাজায় অস্ত্রোপচার শুরু করে, তাহলে সেটি চুক্তির পুরো কাঠামো ধ্বংস করতে পারে এবং নতুন মস্ত বড় মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধবিধির চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বিশেষত অর্পিত শাস্তি, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জাতিসংঘের ম্যান্ডেট সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো। ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই কংগ্রেস ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিষম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কেউ কেউ বলছেন, সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া অন্য উপায় ব্যবহার করে হলেও হামাসকে নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে, আবার অনেকে সতর্ক করেছেন যে অযাচিত আক্রমণে বড় প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি হতে পারে।
গাজায় শান্তিচুক্তি ও বন্দি-ফেরত চুক্তি টিকবে কি না সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; লঙ্ঘন হলে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বাস্তবে পরিণত হতে পারে।
ট্রাম্প কোন আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক অংশীদারের মাধ্যমে সমর্থন প্রদানের কথা ভাবছেন এটি স্পষ্ট নয়। যদি বাহ্যিক হস্তক্ষেপে বেসামরিক জনহানি বাড়ে, আন্তর্জাতিক আদালত, মানবাধিকার সংস্থা ও অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
ট্রাম্পের ‘ঘুকে গিয়ে হত্যা’ শৈলীর হুঁশিয়ারি কেবল কঠোর বক্তৃতা নয় এটি একটি কূটনৈতিক সংকেতও, যা গাজার ভেতরকার সহিংসতা রোধের বিষয়ে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে ঘোষিত কথাগুলো বাস্তবে রূপ নিলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নৈতিক-আইনি মান নিয়ে নতুন বিতর্ক উথ্থাপন করবে। বিবেচ্য বিষয় এখন চুক্তির রক্ষণ, কিয়েভ-ওয়াশিংটন-মস্কোর ত্রিমুখী কূটনৈতিক চাল এবং গাজায় মানবিক নিরাপত্তা বজায় রাখা।