গাজার ৫৮ শতাংশ এলাকা এখনও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২২ অক্টোবর: গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে নতুন এক বিতর্কিত সীমারেখা ঘিরে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নির্ধারিত এই এলাকা এখন পরিচিত “হলুদ রেখা” (Yellow Line) নামে-যা মূলত গাজার অভ্যন্তরে একটি সাময়িক নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এটি হয়ে উঠেছে এক “মৃত্যুফাঁদ”।
জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) জানিয়েছে, ত্রাণ বিতরণের সময় এই অঞ্চলে বহু মানুষ গুলিবর্ষণ, বোমা হামলা ও বিশৃঙ্খলার কারণে নিহত হচ্ছেন। সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, “গাজায় ত্রাণ নেওয়া এখন জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার সমান। আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে সাহায্য করতে গেলেই মানুষ মারা যাচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘হলুদ রেখা’ গাজার উত্তর ও পূর্বাংশে বিস্তৃত, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশ সীমিত করে দিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তরে বাধ্য করছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ ত্রাণের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও নিরাপদে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ত্রাণ নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন-তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অনেকে খাদ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বা স্ট্যাম্পিডে পিষ্ট হয়েছেন।
দ্য গার্ডিয়ান ও এপি নিউজ জানায়, গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে এই “হলুদ রেখা” কার্যত একটি নতুন সীমান্তে পরিণত হয়েছে, যা মানবিক সহায়তা ও সাধারণ মানুষের চলাচল দুটোকেই বাধাগ্রস্ত করছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “গাজায় সাহায্যের রাস্তা কখনও মৃত্যুর ফাঁদ হতে পারে না।” তারা অবিলম্বে নিরাপদ মানবিক করিডর খোলার আহ্বান জানিয়েছে।