মেলবোর্ন, ২৩ অক্টোবর- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সংশোধিত আরপিওতে ভোটারদের ‘না’ ভোটের সুযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে শুধুমাত্র একজন প্রার্থী থাকবেন, সেখানে ভোটাররা চাইলে তাকে সমর্থন না জানিয়ে ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন সংক্রান্ত সব বিধান বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর যেসব ব্যক্তি বিভিন্ন মামলায় পলাতক, তারা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এই বিধান নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন একজন নারী। ফাইল ছবি
নির্বাচনী স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি আয়, সম্পত্তি ও সম্পদের উৎসসহ সব তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। এই তথ্য প্রকাশ্যেও আনা হবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা।
জামানতের অর্থ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসগুলোর দায়িত্ব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপরই থাকবে। রাজনৈতিক জোট হিসেবে নির্বাচন করলে তাদের অংশ নিতে হবে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে, যাতে ভোটাররা স্পষ্ট ধারণা পান কে কোন দলের প্রার্থী।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য প্রথমবারের মতো ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান, দান বা চাঁদা দিতে হলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে এবং দাতাকে অবশ্যই ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে।
আগের আইনে শুধু নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিলের বিধান ছিল। নতুন সংশোধনীতে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুরো নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো ভোট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়ার।
আরপিও সংশোধনের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং আস্থাও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।