হিমবাহধসের আগে ‘অস্বাভাবিক গরম’, বেরিয়ে এলো নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণ
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহধসের আগে ওই এলাকায় বছরের এই সময়ের তুলনায় অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। নতুন এক আবহাওয়া বিশ্লেষণে…
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৩৬ দফা প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটি মনে করে, নিরপেক্ষতা ও জনআস্থার স্বার্থে কিছু প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও তাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব না দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। যদিও বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রস্তাব দেননি, কিন্তু মিডিয়ার সামনে তার হাতে ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে করণীয় প্রস্তাবসমূহ’ শীর্ষক একটি দলিল দেখা গেছে, যেখানে ৩৬ দফা সুপারিশ রয়েছে।
এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যে সব প্রতিষ্ঠানকে জনগণের বড় অংশ ‘দলীয় প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে চিহ্নিত করে যেমন ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল বা ইবনে সিনা সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার বা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। বিএনপি অভিযোগ করেছে, ইসলামী ব্যাংক সম্প্রতি প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করেছে এবং সেখানে দলীয়করণের মাধ্যমে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নয়, বিএনপির প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনকে পুনর্গঠন করতে হবে, বিতর্কিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে, রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকতে হবে।
প্রস্তাবে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যেমন, সব ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য থানাভিত্তিক ও জেলা পর্যায়ে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন, গায়েবি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচনপূর্ব সরকারি নিয়োগ ও বদলি নিয়ন্ত্রণ, এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
বিএনপি বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় তারা এমন একটি নির্বাচনী পরিবেশ চায় যেখানে ১২ কোটি ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন এবং প্রশাসন পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে।
অন্যদিকে, প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মঈন খান বলেন, তাদের উদ্দেশ্য কোনও দলীয় সুবিধা নেওয়া নয়; বরং জাতীয় স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি সরাসরি স্বীকার না করলেও দলটির প্রস্তাবনাপত্রের কপি সাংবাদিকদের হাতে দেখা গেছে।
এই প্রস্তাব যদি নির্বাচন কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে, তবে প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তা নিয়োগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এখন দেখার বিষয় নির্বাচন কমিশন এসব প্রস্তাব কতটা গ্রহণ করে এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au