অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘সেক্স রিট্রিট’ ও ইরোটিক ওয়েলনেস ভ্রমণ, যেখানে মানুষ ছুটি কাটানোর পাশাপাশি নিজের শরীর, আবেগ ও সম্পর্ককে নতুনভাবে আবিষ্কার করছে। ছবি: news.com.au
মেলবোর্ন ২৭ ডিসেম্বর: বালি, ককটেল আর সুইমিং পুলের ধারে অলস ছুটির দিন এখন অনেক অস্ট্রেলিয়ানের কাছে পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। তার বদলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে একেবারে ভিন্ন ধরনের ভ্রমণ, যাকে বলা হচ্ছে ‘সেক্স রিট্রিট’। এগুলো শুধু দেহগত আনন্দের খোঁজ নয়, বরং গভীর আবেগী সংযোগ, আত্মউপলব্ধি এবং সম্পর্কের নতুন মাত্রা খুঁজে পাওয়ার একটি পথ হিসেবে সামনে আসছে।
দেশজুড়ে নানা ওয়ার্কশপ, তান্ত্রিক ‘যৌন নিরাময়’ রিট্রিট এবং ইরোটিক ওয়েলনেস প্রোগ্রাম জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কর্মব্যস্ততা, একাকিত্ব এবং সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্বে ভোগা অনেক মানুষ নিজেদের শরীর ও অনুভূতির সঙ্গে আবার সংযোগ গড়ে তুলতে এসব রিট্রিটে যাচ্ছেন। তবে যাঁরা ভাবছেন এগুলো কেবল উচ্ছৃঙ্খল ভোগের জায়গা, তারা ভুল করছেন। এসব রিট্রিটের লক্ষ্য হলো আত্মসম্মান, সচেতনতা ও সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানো।
নিউ সাউথ ওয়েলসের সাউদার্ন হাইল্যান্ডসে ‘Summers of Love’ নামের কর্মশালা পরিচালনা করা গ্রেগ সামার্স বলেন, আধুনিক জীবনের চাপ মানুষকে ভেতরে ভেতরে শূন্য করে দিচ্ছে। “আমরা সারাদিন অফিস আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকি। আমাদের শরীর কেবল মাথাকে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে বহন করে। ফলে মানুষ নিজের সংবেদনশীলতা আর আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে,” বলেন তিনি।
গোল্ড কোস্টে ‘Bliss Boudoir’ নামের একটি ইরোটিক ওয়েলনেস ও সৃজনশীল প্রাপ্তবয়স্কদের স্পেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মুনরোজ ম্যাজিকও একই মত পোষণ করেন। তাঁর মতে, মানুষ এখন বুঝতে পারছে তারা জীবনে আরও গভীর ও অর্থপূর্ণ অন্তরঙ্গতা চায়, আর প্রচলিত পদ্ধতিতে তা পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, সমাজে যৌনতা নিয়ে যে দীর্ঘদিনের লজ্জা ও নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা ধীরে ধীরে ভাঙছে। মানুষ স্পর্শ, ঘনিষ্ঠতা ও আবেগী যোগাযোগের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে। এসবই এই নতুন আন্দোলনের ভিত্তি।
রিট্রিটগুলোর একটি বড় দিক হলো স্পষ্ট নিয়ম ও সম্মতির সংস্কৃতি। গ্রেগ বলেন, “এগুলো কোনো দলগত যৌনতার আয়োজন নয়। এখানে সবকিছু হয় স্পষ্ট ও উৎসাহী সম্মতির ভিত্তিতে। মানুষ এখানে নিজের সীমা আর ইচ্ছা প্রকাশ করতে শেখে।”
মুনরোজও বলেন, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “এমন জায়গায় মানুষ পরিণত ও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে, কারণ তারা জানে এখানে তারা নিরাপদ।”
দিন দিন সেক্স রিট্রিটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। হোটেল ও রিসোর্টগুলো এখন সুস্থ ও ইতিবাচক যৌনতার ধারণাকে কেন্দ্র করে বিশেষ স্পা ও ওয়েলনেস প্যাকেজ দিচ্ছে। অবকাশকে আরও অর্থবহ ও উপভোগ্য করে তুলতে মানুষ এখন যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে আগ্রহী হচ্ছে। ভ্রমণের সময় নিজের ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করতেও আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে।
অনেক দম্পতির কাছে বিলাসবহুল ছুটির বদলে এমন রিট্রিটে হাজার হাজার ডলার খরচ করা কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু আয়োজকদের মতে, এর প্রভাব অনেক গভীর। গ্রেগ বলেন, সাধারণ ছুটিতে দম্পতিরা ঘোরাঘুরি আর দর্শনীয় স্থান দেখার চাপে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে ভুলে যায়। রিট্রিটে, বরং তাদের সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতার দিকেই মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মুনরোজ বলেন, “নিজের আনন্দ ও সম্পর্ককে বিস্তৃত করার জন্য সময় ও জায়গা তৈরি করা উচিত জীবনের অগ্রাধিকার।”
এই রিট্রিটগুলোতে সবচেয়ে বড় আবেগী পরিবর্তন আসে লজ্জা কাটিয়ে ওঠার মাধ্যমে, বিশেষ করে যখন কেউ নিজের ইচ্ছা বা ‘কিঙ্ক’ নিয়ে সংকোচ বোধ করে। আয়োজকদের মতে, মানুষের বোঝা উচিত, যৌনতা আসলে যোগাযোগ ও পছন্দের বিষয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, ঘনিষ্ঠতা ও স্পর্শ নিয়মিত হওয়া দরকার। গ্রেগ বলেন, “বারবার কাছাকাছি আসুন, একে অপরকে ছুঁন, ভালো কথা বলুন। আত্মবিশ্বাস, কোমলতা আর খেলাচ্ছল্যই আসল আকর্ষণ।”
মুনরোজ যোগ করেন, সম্পর্ক টিকে থাকে ধারাবাহিক আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। “আমাদের যৌন শক্তি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বদলায়। তাই এটি কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি চলমান যাত্রা।”
অস্ট্রেলিয়ায় ‘সেক্স রিট্রিট’ তাই এখন কেবল একটি ভ্রমণ ট্রেন্ড নয়, বরং সম্পর্ক, আত্মপরিচয় ও আবেগী সুস্থতার এক নতুন অধ্যায় হয়ে উঠছে।
প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর, news.com.au | লেখক: পল ইওয়ার্ট | অনুবাদ: OTN Bangla