মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংস্থাটি তাদের অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতা দেশকে হারাল। খবর জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর আগে নির্বাহী আদেশে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংস্থাটির বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় চীনঘেঁষা আচরণ এবং মহামারি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে সেই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানায়, কোভিড মহামারি সামাল দিতে ডব্লিউএইচওর ব্যর্থতা, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে অক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও এসব অভিযোগ বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করেছে।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সংস্থাটির জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধাক্কা। তিনি পোলিও নির্মূল, এইডস প্রতিরোধ, মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগে ডব্লিউএইচওর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, এসব কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কোভিড-১৯ অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যৎ মহামারি প্রতিরোধ ও মোকাবিলার লক্ষ্যে ডব্লিউএইচওর সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তি প্রণয়ন করে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে চুক্তিটি অনুমোদিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ নেয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে ডব্লিউএইচওর সবচেয়ে বড় অর্থদাতাদের একটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অনুদান পরিশোধ না করায় সংস্থাটিকে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইসহ ব্যয় সংকোচনের পথে যেতে হয়েছে। ডব্লিউএইচওর আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে, যদিও ওয়াশিংটন বলছে, এই অর্থ পরিশোধের কোনো বাধ্যবাধকতা তারা দেখছে না।
মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওতে সব ধরনের মার্কিন সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে। জেনেভায় সংস্থার সদর দপ্তরসহ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দপ্তর থেকে মার্কিন কর্মী ও ঠিকাদারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত যৌথ কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ডব্লিউএইচও যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে অবমূল্যায়ন করেছে এবং সংস্থাটি তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের বিষয়টি আগামী ২ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাহী বোর্ডের বৈঠকে আলোচনা করা হবে। পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সংস্থার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।