বিভিন্ন দেশের কারাগার থেকে ৪৯৫ বাংলাদেশিকে ফেরত আনল সরকার
মেলবোর্ন, ২২ জুন- বন্দিবিনিময় চুক্তি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত এক বছরের বেশি সময়ে ৪৯৫ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের শুরু…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ কোনো ধরনের হামলা চালাবে না রুশ বাহিনী। এমন আশ্বাস রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্যক্তিগতভাবে তাকে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তীব্র শীতের মধ্যে মানবিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মন্ত্রিসভার এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ইউক্রেনে ভয়াবহ ঠাণ্ডা পড়েছে এবং এই অবস্থায় হামলা চালানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তার ভাষায়, তিনি নিজে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে হামলা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান এবং পুতিন তাতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্প জানান, দুই নেতার মধ্যে আলোচনা ছিল ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ।
এর আগে বুধবার ইউক্রেনের এক সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান।
ইউক্রেনে বর্তমানে তীব্র শীত চলছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে এবং রোববারের পর তা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ইউক্রেন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে কিয়েভের তৎপরতাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। সেই অভিযান এখনো চলছে।
রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতভর কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে এক হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ প্রায় ১২ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এখনো ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ঘোষিত হামলা স্থগিত রাখার দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে কিয়েভসহ আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র : আরটি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au