লাক্স সুপারস্টার বিজয়ীরা কে কী পেলেন?
মেলবোর্ন, ৪ এপ্রিল- দীর্ঘ সাত বছরের বিরতির পর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও ফিরে এসেছে জনপ্রিয় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা লাক্স সুপারস্টার। এবারের আসরে বিজয়ের মুকুট উঠেছে…
মেলবোর্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারি- ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দামের ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক মাঠ থেকে আলু তোলার খরচও তুলতে পারছেন না। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে তিন টাকার সামান্য বেশি। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমি থেকে আলু তোলা হচ্ছে, কিন্তু মাঠের পাশে সারি করে রাখা বস্তাভর্তি আলু কেনার মতো পাইকার নেই। কয়েকজন কৃষক অপেক্ষা করছেন, যদি কেউ এসে কিছু আলু কিনে নেয়।
কৃষক মনসুর আলী জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে গ্রানুলা জাতের আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সে হিসাবে ১০ বিঘায় তার মোট খরচ প্রায় চার লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে সেই খরচের সামান্য অংশও উঠছে না।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে ১০ হাজার টাকার আলুও বিক্রি করতে পারছি না। তার ওপর পাইকাররা প্রতি বস্তায় আরও দুই-তিন কেজি বেশি আলু দিতে বলছে। এভাবে তো আমাদের পথে বসতে হবে।”
একই এলাকার আরেক কৃষক নুরুল আলম জানান, এ বছর পচন রোগের কারণে অনেক জমিতে গাছ আগেই মরে গেছে। ফলে আলুর আকার ছোট হয়েছে। ছোট আকারের আলু বাজারে কম দামে বিক্রি হয়। তিনি বলেন, “৩-৪ টাকা কেজি বললেও কেউ নিতে চায় না। উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠছে না।”
পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি। ফলে দাম কমে গেছে। ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তাদের গুদামে পর্যাপ্ত আলু মজুত রয়েছে। রমজান মাস এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির কারণে বিক্রি কমে গেছে। তিনি বলেন, “বাজার স্থবির। আগের মালই বিক্রি করতে পারছি না। তাই নতুন করে আলু কিনতে ভয় লাগছে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টন। অথচ জেলায় ১৭টি হিমাগারে সংরক্ষণ সক্ষমতা রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩২ টন। ফলে উৎপাদিত আলুর বড় একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকরা। বাধ্য হয়ে মাঠ থেকেই কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে ভালো দামের আশায় অনেকেই বেশি জমিতে আবাদ করেছেন। পাশাপাশি সারা দেশেই আলুর আবাদ বেড়েছে। ফলে বাইরের জেলাগুলোতেও চাহিদা কমে গেছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পরিকল্পিত আবাদ এবং বিকল্প ফসল চাষে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ চান কৃষকরা। তাদের দাবি, বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং সংরক্ষণের সুযোগ না বাড়ালে এভাবে প্রতি মৌসুমেই লোকসান গুনতে হবে।
সূত্রঃ যুগান্তর
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au