দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ করতে কর্মকর্তাদের সময়সীমা বেধে দিলেন ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ২৭ মার্চ- ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধের ইতি টানার লক্ষ্য নির্ধারণ করে তিনি…
মেলবোর্ন, ২৬ মার্চ- বাঙালি জাতির গর্ব ও গৌরবের সেইদিন আজ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এই দিনে। যার সূচনা হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায়। তাঁরই নির্দেশে জাতি শুরু করেছিল এক অসম যুদ্ধের। বাঙালির অসীম সাহস আর সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ সংগ্রাসের পর এসেছিল চূড়ান্ত বিজয়। জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।
নানা আয়োজনে বাংলাদেশে যখন পালিত হচ্ছে ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, তখনই জাতি দেখলো এক নির্লজ্জ দৃশ্য! ৩০ লাখ শহীদ আর ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর জন্য সরাসরি যে দলটি দায়ী, সেই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আজ হাজির হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। কোনো অনুশোচনা না দেখিয়ে, ক্ষমা না চেয়ে সগর্বে কথিত শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
রাজাকারদের দল হিসেবে সুপরিচিত জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার ভোরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সেই সময় তার সঙ্গে ছিলেন কুখ্যাত রাজাকার এটিএম আজহারুল ইসলাম। ড. ইউনূসের সরকার এই মানবতাবিরোধী অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থেকে খালাস দিয়ে যায়। অথচ ২০১৪ সালের ৩০শে ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারুলকে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে কারাদণ্ড দিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে ড. ইউনূসের সরকার এসেছিলই একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধীদের নতুন করে ক্ষমতায় পুনর্বাসন করতে। তিনি সফলভাবে তা করে গেছেন। জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধীদলের আসনে বসিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয়, সারাদেশে মব সন্ত্রস করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুছে দিয়েছে।
বিএনপি সরকার এসেও ধ্বংস হওয়া মুক্তিযুদ্ধের সেই স্মৃতিচিহ্ন মেরামত করেনি। বরং ইউনূস সরকারের উত্তরাধিকার বহন করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, আজ দেড় বছর পরও সেসব ধ্বংসস্তূপ পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা জাদুঘর। কয়েক দফা ভাঙচুরের শিকার হয় মেহেরপুরের মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্র। এগুলো তেমনই পড়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধবংসের সুপরিকল্পিত আয়োজন। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের কয়েক হাজার ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলা হয়েছে। যাদের মূল লক্ষ্যই ছিল জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা।
সেইসব ক্ষতচিহ্নের মধ্যে আজ আবার আবার যুক্ত হলো আরেকটি দগদগে ঘা- জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের শহীদের স্মৃতিতে কথিত শ্রদ্ধা জানানো। এ দেখে নিশ্চয়ই শহীদদের আত্মা গুমরে কাঁদছে। সম্ভ্রম হারানো মায়েরা লজ্জায় মুখ ঢাকছেন! এদিন দেখতেই কি তারা এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন?
আজ জাতিকে এমন দৃশ্যও দেখতে হলো- এরচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে? আমরা মনে করি, শক্ত হাতে এসব প্রতিরোধের সময় এসেছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিরোধ না করতে পারলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অর্জিত বাংলাদেশ খুঁজে পাবে না আগামী প্রজন্ম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au