রোমান্স ছেড়ে এবার অ্যাকশনে ‘সাইয়ারা’ অভিনেতা
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর এবার অ্যাকশন ঘরানায় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন ‘সাইয়ারা’খ্যাত অভিনেতা আহান পাণ্ডে। প্রথম ছবির সাফল্যের পর ভিন্নধর্মী…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী কারাবন্দী মানবাধিকারকর্মী নার্গেস মোহাম্মাদি কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তারা বলছে, বর্তমানে তার জীবন গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।
সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। গত ২৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে ইরানের সরকার তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে তাকে বারবার কারাবন্দি করেছে। তার ভাই বিবিসিকে জানিয়েছেন, মোহাম্মাদির জীবন এখন তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর তিনি যথাযথ চিকিৎসা পাননি। এর আগেই এই সপ্তাহের শুরুতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়, যখন তাকে তার শয্যায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার চোখ উল্টে গিয়েছিল বলে জানা যায়।
নার্গেস মোহাম্মাদি ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবাধিকার নিয়ে আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গত ১২ ডিসেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে একটি দাফন অনুষ্ঠানে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর একই মাসে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাকে উত্তরাঞ্চলীয় জানজান শহরের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ খুবই সীমিত রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে হামলার ঘটনাও তার পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
রোববার কঠোর নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে তার আইনজীবী ও পরিবারের এক সদস্য তাকে কারাগারে গিয়ে দেখতে পান। সমর্থকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাক্ষাতের সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। তাকে ফ্যাকাশে ও দুর্বল দেখাচ্ছিল এবং তার ওজনও অনেক কমে গেছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, তার জীবন এখন গুরুতর ঝুঁকিতে।
বৃহস্পতিবার তার ভাই হামিদরেজা মোহাম্মাদি বিবিসিকে বলেন, তার বোনের হৃদরোগ ও ফুসফুসজনিত সমস্যা রয়েছে, তাই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
সমর্থকদের দাবি, ২৪ মার্চ কারাগারের কক্ষে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিনি এক ঘণ্টারও বেশি সময় এ অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু এত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালে না নিয়ে কারাগারের ভেতরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এছাড়া কারাগারের ভেতর থেকেও আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরুর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জানুয়ারিতে সেই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে সরকার কঠোর দমন অভিযান চালায়, যেখানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে আরও ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ইরানের ইসলামি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে অতিরিক্ত দেড় বছরের সাজা দেওয়া হয়। কারাগারের পরিস্থিতির প্রতিবাদে তিনি প্রায় এক সপ্তাহ অনশনও করেন।
৫৩ বছর বয়সী নার্গেস মোহাম্মাদি গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে এবং নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক পোশাক বিধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছেন, যার কারণে তাকে বারবার গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়েছে।
এদিকে, আরেক ইরানি মানবাধিকার আইনজীবী নাসরিন সতোদেহকেও গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বুধবার রাতে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় তার মাকে আটক করা হয়।
নাসরিন সতোদেহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাখারভ পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। অতীতে তার মানবাধিকারকর্মের জন্য তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্বামী রেজা খানদান ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন।
তার মেয়ে জানিয়েছেন, বাসায় গিয়ে তারা দেখতে পান ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ সব ইলেকট্রনিক যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে মায়ের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং কোন সংস্থা তাকে আটক করেছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
নাসরিন সতোদেহ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সংবেদনশীল নানা বিষয়ে কাজ করে আসছেন, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অপরাধে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au