শেরপুর-৩ আসনেও বড় ব্যবধানে জিতলেন বিএনপি প্রার্থী
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা…
মেলবোর্ন, ১০ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে এই বিপুল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে কতজন হিন্দু এবং কতজন মুসলিম, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এর মধ্যেই নিজেদের সাংগঠনিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, বাদ পড়া নামের প্রায় ৬৩ শতাংশই হিন্দু ভোটার।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ লাখই হিন্দু এবং প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মুসলিম। দ্বিতীয় ধাপে বাদ পড়া প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নামের মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজারই হিন্দু এবং মুসলিম নাম ছিল প্রায় ১৩ হাজারের মতো। তৃতীয় এবং সর্বশেষ ধাপে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লাখ নাম বাদ যায়, যেখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, প্রায় সাড়ে ১৭ লাখের বেশি। অন্যদিকে হিন্দু নাম ছিল প্রায় ৮ লাখ ৩৫ হাজার।
এই তিন ধাপের সামগ্রিক হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, মোট বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ হিন্দু এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ মুসলিম। বাকি অংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের। অনুপাত হিসেবে এটি প্রায় ২:১, অর্থাৎ প্রতি দুইজন হিন্দুর বিপরীতে একজন মুসলিমের নাম বাদ পড়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
বৃহস্পতিবার তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা খোঁজার নামে বিজেপি সব ভোটারকেই লাইনে দাঁড় করিয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ, এমনকি দরিদ্র হিন্দুরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য, “পরিসংখ্যানই বলছে, ৫৭ লাখের বেশি হিন্দু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।”
তৃণমূলের এই দাবির সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন না তুললেও বিজেপি পাল্টা জানতে চেয়েছে, এই তথ্য তারা কোথা থেকে পেল। বিজেপির মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন যখন এই তথ্য প্রকাশ করেনি, তখন তৃণমূল কীভাবে তা সংগ্রহ করেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই এই তথ্য পাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে তৃণমূল এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সূত্র উল্লেখ করেনি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংস্থা এসআইআর তালিকা ডিজিটালভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং প্রথম দুই ধাপের বুথভিত্তিক তথ্য তাদের সংগঠনের কাছেও ছিল। তাদের মতে, এই তথ্য সংগ্রহ করতে বিশেষ কোনো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়নি।
এদিকে অনেক বিশ্লেষক পুরো বিষয়টিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে গুণগত দিক থেকে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রথম ধাপে যেসব নাম বাদ পড়েছে, তার বড় অংশই ছিল স্থানান্তরিত ভোটার বা একাধিক স্থানে নাম থাকা ব্যক্তিদের। অন্যদিকে তৃতীয় ধাপে বাদ পড়া নামগুলোর একটি বড় অংশ নিয়মিত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ গেছে, যেখানে সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি বেশি ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিষয়টি বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এসব এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। ফলে হিন্দু ভোটারদের বড় অংশের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি সেখানে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দেশের আরও ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে এসআইআর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন নির্বাচন কমিশনের বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি, যারা কর্মসূত্রে বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য অনলাইনে ফরম পূরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au