মেলবোর্ন, ৩০ মে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে গঠিত এই তহবিল নিয়ে শুরু থেকেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
শুক্রবার (২৯ মে) ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক লিওনি ব্রিংকেমা এক আদেশে জানান, আদালতের পরবর্তী আইনি শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিল গঠন, পরিচালনা বা বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নামে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। মূলত ট্রাম্পের কর সংক্রান্ত নথি ফাঁসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত এই তহবিলের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭৭৬ বিলিয়ন ডলার। এটি পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন গঠনের পরিকল্পনাও করা হয়। কমিশনটি তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে, যারা নিজেদের ‘ল-ফেয়ার’ কিংবা ‘ওয়েপনাইজেশন’-এর শিকার হিসেবে প্রমাণ করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্ররা নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন তদন্ত ও ফৌজদারি মামলাকে এই শব্দগুলো দিয়ে বর্ণনা করে আসছেন।
তবে তহবিল ঘোষণার পরপরই এর বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। ট্রাম্প-ভ্যান্স প্রশাসনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেওয়া একটি গোষ্ঠী আদালতে মামলা করে দাবি করে, এই তহবিল রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট এবং এর সুবিধা কেবল ট্রাম্পপন্থিরাই পাবেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ও সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউও এই তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তহবিলকে ঘিরে আদালতের হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের টানাপোড়েনও নতুন করে সামনে এসেছে।