দুর্গম মরুভূমিতে বিশাল সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে চীন। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
মেলবোর্ন, ৩০ মে- তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা শক্তি আরও জোরদার করতে মরুভূমির গভীরে বিশাল সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করছে চীন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেশটির গোপন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছে বড় ধরনের সামরিক নেটওয়ার্ক তৈরির তথ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থার হাতে থাকা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, পূর্ব জিনজিয়াংয়ের দুর্গম মরুভূমি এলাকায় ৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্যাড, সাঁজোয়া বাঙ্কার, যোগাযোগ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি এবং বিমান অবকাঠামো নির্মাণ করছে বেইজিং। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের পারমাণবিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য মার্কিন আগাম পারমাণবিক হামলার পরও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রাখা। নতুন এই নেটওয়ার্ক এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে হামলার মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি শনাক্ত করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পুরো নেটওয়ার্কটি শক্তিশালী ফাইবার-অপটিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট টাওয়ারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সেখানে সামরিক যানবাহনের জন্য বিশেষ আবাসন, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার, বিমানঘাঁটি, রেল সংযোগ এবং প্রতিরক্ষা ব্যাটারিও তৈরি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ঘাঁটিগুলো শুধু পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নয়, মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
চীনের পারমাণবিক কৌশল দীর্ঘদিন ধরেই ‘সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ, প্রথম আঘাতের পরও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে চীনের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক শক্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় শিনজিয়াং ও গানসু অঞ্চলের সাইলো ঘাঁটিগুলোকে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোকে চাপের মুখে ফেলতেই এই পরমাণু সক্ষমতাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে বেইজিং।
সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর মধ্যেই পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত এক হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েনের লক্ষ্যে দ্রুত এগোচ্ছে চীন।
ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন বলেন, “এ ধরনের বিশাল প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অবকাঠামো আগে খুব কমই দেখা গেছে। এটি সত্যিই অসাধারণ ও উদ্বেগজনক উদ্যোগ।”
বিশ্লেষকদের মতে, মরুভূমির ভেতরে গড়ে ওঠা এই নতুন সামরিক নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স