তরুণদের জন্য বাড়ির সুযোগ বাড়াতে বাজেটে সম্পত্তি কর সুবিধা বদলের ইঙ্গিত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ মে- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আসন্ন ফেডারেল বাজেটে সম্পত্তি বিনিয়োগ সংক্রান্ত কর-সুবিধায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য আবাসন বাজারে প্রবেশ সহজ করার লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।
সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ‘নেগেটিভ গিয়ারিং’ সুবিধা এবং মূলধনী মুনাফা করের (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স) ৫০ শতাংশ ছাড় সীমিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই দুটি সুবিধার কারণে আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, তবে সমালোচকদের মতে এতে বাড়ির দাম বেড়ে তরুণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলবানিজ বলেন, “তরুণদের অনেকেই মনে করেন তারা ন্যায্য সুযোগ পাচ্ছেন না। আমরা চাই অস্ট্রেলিয়া ভবিষ্যতের জন্য সুযোগের দেশ হয়ে উঠুক।” তিনি ইঙ্গিত দেন, বাজেটে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত তরুণদের আবাসন সুবিধা বাড়ানোর দিকেই কেন্দ্রীভূত থাকবে।
সরকার আরও বিবেচনা করছে পারিবারিক ট্রাস্ট থেকে আয় বণ্টনের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি। এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিসভা শিগগিরই বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে। তবে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘গ্র্যান্ডফাদারিং’ সুবিধা রাখা হতে পারে, যাতে পুরোনো বিনিয়োগগুলো নতুন নিয়মের বাইরে থাকে।
গত নির্বাচনের আগে আলবানিজ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, নেগেটিভ গিয়ারিং পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার ‘প্রজন্মগত বৈষম্য’ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য কর বৃদ্ধির সমালোচনা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনালস নেতা ম্যাট ক্যানাভান বলেন, তারা কর বাড়ানোর যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করবেন, যদিও চূড়ান্ত প্রস্তাব সামনে এলে তা পর্যালোচনা করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন বাজারে মূল্যস্ফীতি কমানো এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যেই এই নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঝুঁকি থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আগামী ১২ মে বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।