মেলবোর্ন, ৩ মে- যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ১১টি গ্রাম খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। রোববার (৩ মে) সকালে এই নির্দেশ জারি করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর রয়েছে এবং তা মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিয়মিত উত্তেজনা ও হামলা অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে বর্তমানে ইসরায়েলের পাঁচটি সামরিক ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। এসব বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বসতবাড়ি, তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। সর্বশেষ নির্দেশে যেসব ১১টি গ্রাম খালি করতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি গ্রাম প্রথমবারের মতো এমন নির্দেশের আওতায় এসেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু গ্রাম লিতানি নদীর উত্তরের এলাকাতেও পড়েছে, যা সংঘাতের বিস্তৃতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ নতুন না হলেও এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এক চীনা কূটনীতিক পরিস্থিতিকে ‘পূর্ণ যুদ্ধ নয়, বরং কম মাত্রার সংঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, টানা অনিশ্চয়তার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদে নিজ বাড়িতে ফেরার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এতে লেবাননের নাজুক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিষেবাগুলোতে।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে অঞ্চলজুড়ে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুত্রঃ আল জাজিরা