জার্মানিতে ব্যাংকে একাধিক জিম্মি, এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ
মেলবোর্ন, ৮ মে- জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের সিনজিগ শহরের একটি ব্যাংকে একাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে সংঘটিত এই ঘটনার পর…
মেলবোর্ন, ৮ মে- ভারতে অবস্থানরত ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের’ দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে ভারত। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাইসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দুই দেশের বিদ্যমান আইন, প্রক্রিয়া এবং দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে নাগরিকত্ব যাচাইসংক্রান্ত ২ হাজার ৮৬২টি মামলা বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কিছু পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় আছে। তাঁর ভাষায়, নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হওয়ায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি বাংলাদেশ দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, যাতে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সহজ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।”
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পর বাংলাদেশ সরকারের এক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি অভিযোগ করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কিছু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে। তিনি বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এ ধরনের পদক্ষেপের কথা স্বীকার করার পর বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়সওয়াল বলেন, “ভারতে অবস্থানরত সব অবৈধ বিদেশি নাগরিককে দেশের আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভারত একতরফাভাবে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে নাগরিকত্ব যাচাই দ্রুত না হলে পুরো প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে যাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করা হচ্ছে, তাদের জাতীয় পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে আটকের পরও অনেককে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ভারত “অবৈধ বাংলাদেশি” শনাক্তের নামে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে পারে। বিশেষ করে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশ ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরেও অতীতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে “অবৈধ বাংলাদেশি” ইস্যুটি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রশ্নে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো না গেলে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত সময়ে এই ধরনের ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au