জার্মানিতে ব্যাংকে একাধিক জিম্মি, এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ
মেলবোর্ন, ৮ মে- জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের সিনজিগ শহরের একটি ব্যাংকে একাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে সংঘটিত এই ঘটনার পর…
মেলবোর্ন, ৮ মে- তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নবাগত রাজনৈতিক নেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে) বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে রাজ্যের ক্ষমতায় বসার স্বপ্ন এখনো অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দলটির নির্বাচিত বিধায়কদের একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট আসন ২৩৪টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসনের সমর্থন। নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও ১০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই টিভিকে নেতৃত্ব আশা করছিল, কংগ্রেস ও কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে তারা সরকার গঠন করতে পারবে। কংগ্রেস পাঁচটি আসন পাওয়ার পাশাপাশি বামপন্থি দলগুলোর সমর্থনও পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে বিজয়ের দল।
কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বুধবার, যখন টিভিকের একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যপাল আর ভি আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, সরকার গঠনের প্রস্তাবে রাজ্যপাল তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দেননি। বরং বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার গঠনের দাবি জানাতে হলে বিজয়কে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র দেখাতে হবে।
রাজ্যপালের এই অবস্থানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে টিভিকের ভেতরে। দলটির নেতারা বলছেন, সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে তারা আদালতের দ্বারস্থও হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি ,ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে ইতোমধ্যে কংগ্রেস ছাড়াও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), সিপিআইএম এবং বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি বিজয়ের দলকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই তিনটি দলই ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক।
ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনও বিজয়কে এই দলগুলোর সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানাননি। তবে বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাটচির প্রধান থিরুমাভালাভান বলেছেন, তারা সরকারে সরাসরি যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। তার মতে, বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য কিছু সময় দেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে এআইএডিএমকের সমর্থন আদায় করা। একসময় দীর্ঘ ৬২ বছর তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় থাকা এই দলটির কিছু বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন দিতে আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। সম্প্রতি খবর ছড়ায়, এআইএডিএমকের অন্তত ১২ জন বিধায়ক টিভিকের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। তবে দলটির শীর্ষ দুই নেতা প্রকাশ্যে সেই তথ্য অস্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিজয়ের সঙ্গে কোনো জোট বা সমঝোতা হয়নি।
সরকার গঠন নিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই টিভিকের নির্বাচিত ১০৭ জন বিধায়ককে রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরের পর্যটনকেন্দ্র মামাল্লাপুরামের একটি বিলাসবহুল অবকাশযাপনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেওয়া বা অন্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতিতে বিধায়কদের রিসোর্ট বা অবকাশযাপনকেন্দ্রে রাখার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েনের সময় একই কৌশল নিতে দেখা গেছে রাজনৈতিক দলগুলোকে।
এদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। যদি টিভিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজ্যপাল নতুন বিধানসভা স্থগিত করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করতে পারেন।
নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ার পরও সরকার গঠনের অনিশ্চয়তায় থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থেকে রাজনীতির ময়দানে উঠে আসা এই নেতা শেষ পর্যন্ত রাজ্যের ক্ষমতায় বসতে পারেন কি না, এখন সেটিই তামিলনাড়ুর সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au