জার্মানিতে ব্যাংকে একাধিক জিম্মি, এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ
মেলবোর্ন, ৮ মে- জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের সিনজিগ শহরের একটি ব্যাংকে একাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে সংঘটিত এই ঘটনার পর…
মেলবোর্ন, ৮ মে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’কে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। নিউইয়র্কভিত্তিক এই আদালত বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন যে আইনের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেছিল, সেই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেয় না।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে “আইন বহির্ভূত” বলে উল্লেখ করে। বিচারকদের মধ্যে দুইজন রায়ের পক্ষে মত দেন। তবে তৃতীয় বিচারক ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, প্রেসিডেন্টের নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ১৯৭৭ সালে প্রণীত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা আইইইপিএ আইনের অপব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এই শুল্ক আরোপ করেছিল। কিন্তু ওই আইন প্রেসিডেন্টকে সব দেশের ওপর এককভাবে ১০ শতাংশ বেইসলাইন শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয় না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই রায়ের বিরুদ্ধে যেতে চায়, তাহলে প্রথমে তাদের ওয়াশিংটনের ইউএস কোর্ট অব আপিল ফর দ্য ফেডারেল সার্কিট-এ আপিল করতে হবে। সেখানে রায় বিপক্ষে গেলে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট-এ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ট্রাম্প প্রশাসন নতুন বৈশ্বিক শুল্কনীতি ঘোষণা করে। ওই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টাপাল্টি শুল্কও কার্যকর করা হয়।
পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো এবং ব্রাজিল-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনে এই শুল্ককে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, এই নীতির ফলে দেশটির শিল্প ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সুরক্ষিত হয়েছে এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আয় বেড়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, গত প্রায় এক বছরে শুধু শুল্ক থেকেই অতিরিক্ত প্রায় ১৩ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি একই ধরনের আরেক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, আইইইপিএ আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যেভাবে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন, তা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। একই দিনে তিনি ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর নতুন করে অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এই অস্থায়ী শুল্ক ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।
সেই হিসেবে আগামী ২৪ জুলাই শেষ হবে অস্থায়ী এই শুল্কের মেয়াদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের এই রায় শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ধাক্কাই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আসছিল, তারা এই রায়কে নিজেদের জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বস্তি হিসেবে দেখছে।
এদিকে ট্রাম্পপন্থী মহল আদালতের এই সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক নীতিতে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র : এপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au