জার্মানিতে ব্যাংকে একাধিক জিম্মি, এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ
মেলবোর্ন, ৮ মে- জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের সিনজিগ শহরের একটি ব্যাংকে একাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে সংঘটিত এই ঘটনার পর…
মেলবোর্ন, ৮ মে- আজ ২৫শে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। বাঙালির সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মননের ইতিহাসে এই দিনটি এক বিশেষ আবেগ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই মহামানবকে আজও স্মরণ করা হয় শুধু একজন কবি হিসেবে নয়, বরং একটি যুগ, একটি চেতনা এবং মানবিক সভ্যতার প্রতীক হিসেবে।
১৮৬১ সালের ২৫শে বৈশাখ (১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মা সারদাসুন্দরী দেবী। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান। মাত্র আট বছর বয়সে কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি। প্রকৃতি, মানুষ, প্রেম, দেশপ্রেম এবং মানবজীবনের গভীর দর্শন তাঁর লেখায় এমনভাবে উঠে এসেছে, যা যুগের পর যুগ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গানসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তিনি রেখে গেছেন অমর সৃষ্টি। তাঁর লেখা ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অসংখ্য ছোটগল্প ও গান বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা। তাঁর সৃষ্টি আজ শুধু বাংলা ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বের নানা ভাষায় অনূদিত হয়ে তিনি বিশ্বসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন।
১৯১৩ সালে তাঁর “গীতাঞ্জলি” কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল সমগ্র এশিয়ার জন্য এক ঐতিহাসিক গৌরব। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম সাহিত্যিকই এই মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর লেখা “আমার সোনার বাংলা” আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, আর ভারতের জাতীয় সংগীত “জনগণ মন”ও তাঁরই রচনা। এই দুটি সৃষ্টি তাঁকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু সাহিত্যিক নন, তিনি ছিলেন মানবতার দার্শনিক। তাঁর চিন্তায় ছিল মানুষের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা, শিক্ষা, নারী অধিকার এবং মানবমুক্তির গভীর বার্তা। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভালোবাসা, বিভাজন নয়। তাঁর লেখা গান ও কবিতা আজও মানুষের হৃদয়কে শান্ত করে, নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানও অসাধারণ। শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি একটি নতুন শিক্ষাধারার সূচনা করেন, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে শিক্ষাকে দেখা হতো। কুষ্টিয়ার শিলাইদহ এবং বীরভূমের শান্তিনিকেতনে তাঁর দীর্ঘ সময় কাটানো জীবনের সৃজনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজগৎ ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। তাঁর উপন্যাসে যেমন উঠে এসেছে মানব সম্পর্কের জটিলতা, তেমনি গল্পে দেখা যায় সমাজ, প্রেম ও আত্মজাগরণের গভীর চিত্র। “চারুলতা”, “গোরা”সহ তাঁর অসংখ্য সৃষ্টি আজও পাঠকের মনে গভীর ছাপ রেখে যায়।
আজকের দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সকাল থেকে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এতে রয়েছে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নাটক এবং তাঁর রচনাভিত্তিক বিশেষ পরিবেশনা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনও দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজও বেঁচে আছেন তাঁর অমর সৃষ্টি, দর্শন ও মানুষের হৃদয়ের গভীরে। তিনি কেবল অতীতের নন, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও পথপ্রদর্শক। তাঁর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে বিশ্বজুড়ে ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই মহামানবকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au