জার্মানিতে ব্যাংকে একাধিক জিম্মি, এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ
মেলবোর্ন, ৮ মে- জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলের সিনজিগ শহরের একটি ব্যাংকে একাধিক ব্যক্তিকে জিম্মি করার ঘটনায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকালে সংঘটিত এই ঘটনার পর…
মেলবোর্ন, ৮ মে- আটলান্টিক মহাসাগরে ভ্রমণরত বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে জাহাজটির তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যদিও এখনই এটিকে বৈশ্বিক মহামারির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

প্রায় এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর এমভি হন্ডিয়াস জাহাজের তিনজন যাত্রী মারা গেছেন , ছবিঃ সংগৃহীত
প্রায় এক মাস আগে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ‘এমভি হন্ডিয়াস’। জাহাজটিতে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। ভ্রমণের মাঝপথে কয়েকজন যাত্রীর জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরে পরীক্ষায় দুজনের শরীরে হান্টাভাইরাসের অ্যান্ডিস স্ট্রেইন শনাক্ত হয়।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ভাইরাসটির এই ধরন ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে যাত্রীদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে। যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালা থেকে বাতাসে ছড়িয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রমণের শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা ও পেটের সমস্যার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও পরে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া কিংবা কিডনি বিকলের মতো জটিল অবস্থায় রূপ নিতে পারে। হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোমে মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভে বলেছেন, “এটি কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো দ্রুত ছড়ায় না। হান্টাভাইরাস মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে সংক্রমিত হয়, তাই সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো কম।”
বর্তমানে আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহাজটিতে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি আরও কঠোর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তে আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হান্টাভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন এখনো নেই। তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ইঁদুরের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং ইঁদুরের মল বা বর্জ্য পরিষ্কারের সময় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au