ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি জুলিয়ান ইনগ্রাম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ মে- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের সেন্ট্রাল ওয়েস্ট অঞ্চলে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি বহুদিন ধরে পলাতক থাকা কথিত ‘ট্রিপল মার্ডার’ অভিযুক্ত জুলিয়ান ইনগ্রামের মরদেহ। গত জানুয়ারি মাসে লেক কার্গেলিগো এলাকায় তিনজনকে গুলি করে হত্যার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
৩৭ বছর বয়সী জুলিয়ান ইনগ্রাম পেশায় স্থানীয় কাউন্সিলের মালী ছিলেন। গত ২২ জানুয়ারি লেক কার্গেলিগো এলাকায় এক গুলির ঘটনায় তার অন্তঃসত্ত্বা সাবেক সঙ্গী সোফি কুইনসহ তিনজন নিহত হন। পুলিশ জানায়, সোফি কুইনের পাশে গাড়িতে বসা অবস্থায় ৩২ বছর বয়সী জন হ্যারিসকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর জুলিয়ান ইনগ্রাম গাড়ি চালিয়ে সোফি কুইনের খালা নেরিডা কুইনের বাড়িতে যান এবং সেখানে ৫০ বছর বয়সী নেরিডা কুইনকে গুলি করে হত্যা করেন। ওই সময় বাড়িতে থাকা ১৯ বছর বয়সী ক্যালেব ম্যাককুইনও গুলিবিদ্ধ হন, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
সোমবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে লেক কার্গেলিগো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষিত এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ইউট গাড়ির পাশে মরদেহটি দেখতে পায় কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
ওয়েস্টার্ন রিজিয়নের সহকারী পুলিশ কমিশনার অ্যান্ড্রু হল্যান্ড জানান, উদ্ধার হওয়া গাড়িটি সেই একই গাড়ি, যেটি হত্যাকাণ্ডের পর জুলিয়ান ইনগ্রাম চালিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, “গাড়িটির পাশে অত্যন্ত পচনধরা অবস্থায় একজন পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহের পাশে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত না হলেও পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে আমরা বিশ্বাস করছি এটি জুলিয়ান ইনগ্রামের মরদেহ।”
পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় এর আগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস ওই এলাকায় বন্য প্রাণী নিধন কার্যক্রম পরিচালনার সময় পরিত্যক্ত গাড়িটি দেখতে পায় এবং পরে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
সহকারী কমিশনার অ্যান্ড্রু হল্যান্ড বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত পরিবারগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর। একই সঙ্গে লেক কার্গেলিগো শহরের মানুষও দীর্ঘ আতঙ্কের পর কিছুটা স্বস্তি পাবে। তদন্তের সঙ্গে জড়িত সবাই মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি অনুভব করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম জুলিয়ান ইনগ্রামকে আদালতের মুখোমুখি করতে। যদি তিনি আত্মহত্যা করে থাকেন, সেটি তার নিজের সিদ্ধান্ত।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জুলিয়ান ইনগ্রামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার একাধিক অভিযোগ চলমান ছিল। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল মারধর, সম্পত্তি নষ্ট করা, অনুসরণ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ।
জুলিয়ান ইনগ্রামকে ধরতে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ। গরমের তীব্র সময়ে দুর্গম গ্রামীণ অঞ্চল, বনাঞ্চল এবং বিভিন্ন খামার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মাউন্ট হোপ, ইউবালং এবং কিয়াকাটু এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
তল্লাশি অভিযানে পুলিশ হেলিকপ্টার, ড্রোন, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট, বিশেষ কৌশলগত বাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও অংশ নেয়। তবে এত বড় অভিযানের পরও তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, পুরো সময়ে মাত্র একবারই নিশ্চিতভাবে জুলিয়ান ইনগ্রামকে দেখা গিয়েছিল। পলাতক হওয়ার দুই দিন পর মাউন্ট হোপ এলাকায় শূকর শিকারে যাওয়া দুই কিশোরী তাকে দেখতে পায়। প্রথমে তারা একটি খোলা মাঠে তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পায়। কয়েক ঘণ্টা পরে আবারও তাকে দেখতে পেলে তিনি তাদের গাড়ির দিকে অস্ত্র তাক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জুলিয়ান ইনগ্রাম বনাঞ্চলে টিকে থাকার ব্যাপারে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় উদ্যান এলাকায় ক্যাম্প করে থাকতেন এবং আশপাশের খামার ও গ্রামীণ এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল। পুলিশ মনে করছে, এই দক্ষতার কারণেই তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পেরেছিলেন।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ