অর্থনৈতিক সংকটে বলিভিয়া, রাস্তায় নেমে এসেছে লাখো শ্রমিক ও কৃষক। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৫ মে- বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে খনি শ্রমিকদের নেতৃত্বে সহিংস বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিস্ফোরণ, ডিনামাইট সদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ এবং রাস্তায় ব্যাপক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির মধ্যপন্থি প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবি জোরালো হচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকেই রাজধানী লা পাজের কেন্দ্রীয় এলাকা প্লাজা মুরিয়োতে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ডিনামাইট সদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি খনি খাতে বিস্ফোরক ও জ্বালানির সহজ প্রবেশাধিকার, খনি চুক্তির সংশোধন এবং বিদ্যমান খনি আইন কার্যকর করা। তবে এই আন্দোলন শুধু খনি শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কৃষক ও বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন-সমর্থিত সংগঠনও এতে যোগ দিয়েছে, ফলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বর্তমানে বলিভিয়া গভীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডলারের ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে, যার ফলে খাদ্য, ওষুধ এবং হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ যানজট ও হাজার হাজার ট্রাক আটকে থাকার ঘটনাও দেখা গেছে।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবি ওঠে। মাত্র ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসা এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় জয়ের মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘ দুই দশকের বামপন্থি শাসনের অবসান ঘটান। তিনি ক্ষমতায় এসে অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বাজারভিত্তিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সংকট নিরসনে সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। জ্বালানি ভর্তুকি ও কৃষি সংস্কার আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনার পর একটি বিতর্কিত আইন ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বুধবার এই সিদ্ধান্ত আসে, যা কিছু সংগঠনের চাপের ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
সংঘর্ষের ঠিক আগে প্রায় ২০ জন খনি শ্রমিকের একটি প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে প্রবেশ করে বৈঠকে অংশ নেয়। একই সময়ে কয়েকজন মন্ত্রীও জরুরি আলোচনায় যোগ দেন। অর্থমন্ত্রী হোসে গাব্রিয়েল এস্পিনোজা জানান, সরকার সংলাপের জন্য প্রস্তুত।
তবে পরিস্থিতির রাজনৈতিক মাত্রাও বাড়ছে। সরকার আন্দোলন উসকে দেওয়ার জন্য বিরোধী দল এবং সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেসকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে মোরালেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, জ্বালানি, খাদ্য ও মূল্যস্ফীতির মতো মৌলিক সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।
দেশটিতে চলমান এই অস্থিরতা নতুন রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্রঃ রয়টার্স