মেলবোর্ন, ১৬ মে- যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটির দাবি, অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বড় পরিসরের সামরিক হামলা চালানোর ক্ষমতাও সীমিত হয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে সেন্টকম প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো খুব অল্প সময়েই অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অবকাঠামোও এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে দেশটির জন্য দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সেন্টকমের দাবি, অভিযানের ফলে শুধু ইরানের ভেতরেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বলয়েও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সরবরাহ ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সামরিক ও লজিস্টিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও এই অভিযানের প্রভাব পড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কৌশলগত অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন দাবি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।
সুত্রঃ গালফ নিউজ