যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই : ইরান
মেলবোর্ন, ১৬ মে- যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে ওয়াশিংটন আন্তরিকতা দেখালে তেহরান আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলেও…
মেলবোর্ন, ১৬ মে- ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, স্টারমার দায়িত্ব ছাড়লে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও গাজা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে ভবিষ্যৎ লেবার নেতৃত্ব।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে তুলনামূলক নরম অবস্থান নেওয়ার কারণে লেবার পার্টির ভেতরেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন কিয়ার স্টারমার। দলটির অনেক নেতা ও সমর্থক মনে করছেন, গাজা পরিস্থিতিতে শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটার লেবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
লেবার এমপি রিচার্ড বার্গন বলেন, “গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতিবাদ না করায় অসংখ্য মানুষ লেবার পার্টি থেকে দূরে সরে গেছে।” আরেক এমপি কিম জনসন বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে অবশ্যই ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান নিতে হবে, বিশেষ করে গাজা ও পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের প্রশ্নে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের অনেকেই ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থানের জন্য পরিচিত।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম একসময় ইসরায়েলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে সরব হয়েছেন। সাবেক লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড অতীতেও গাজায় ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করেছিলেন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জোরালো সমর্থক। অন্যদিকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে ঘিরেও আলোচনা চলছে। একসময় ইসরায়েলপন্থি লবির কাছ থেকে অনুদান নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের সময় ব্রিটেন আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব এলে সেই নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ।
এদিকে গাজা ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টির উত্থান লেবার পার্টির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ লেবার নেতৃত্বকে শুধু দলের অভ্যন্তরীণ চাপ নয়, বরং ভোটব্যাংক ধরে রাখতেও ইসরায়েল ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au