সুইডেন, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস তাদের অব্যবহৃত USAID তহবিল ফেরত চাইছে। Photo-collected
সংক্ষিপ্ত সংবাদ:
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তিনটি ইউরোপীয় দেশ তাদের অব্যবহৃত USAID তহবিল ফেরত চেয়েছে। সুইডেন, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে USAID-এর সাথে “Water and Energy for Food” (WE4F) নামক একটি প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিল। এই প্রকল্পের জন্য তারা যে অর্থ প্রদান করেছিল, তা USAID-এর কাছে জমা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এবং ইলন মাস্কের “Department of Government Efficiency” (DOGE) USAID-এর তহবিল ও প্রকল্পগুলোর সিংহভাগ বন্ধ করে দেওয়ায়, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের অব্যবহৃত তহবিল ফেরত চেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো উত্তর মেলেনি।
সুইডেন, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডস সরকার USAID-কে ইমেইলের মাধ্যমে তাদের তহবিলের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টি তুলে ধরার হুমকি দিয়েছে। সুইডেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার মুখপাত্র জুলিয়া লিন্ডহোম বলেছেন, “এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে যখন আমরা চাই আমাদের অংশীদার সংস্থাগুলো তাদের কাজের জন্য যথাযথভাবে ক্ষতিপূরণ পাক।”
WE4F প্রকল্পটি জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং USAID-এর যৌথ উদ্যোগ পরিচালিত হয়ে আসছিল। এই প্রকল্পের লক্ষ্য দরিদ্র দেশগুলোর কৃষকদের জন্য উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং পানির ব্যবহার কমিয়ে আনা। তবে USAID-এর তহবিল বিতরণে ব্যর্থতা বিশ্বের ৬ মিলিয়ন দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যারা খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তার জন্য এই প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।
সুইডেনের উন্নয়ন সংস্থা জানিয়েছে, USAID-এর অ্যাকাউন্টে তাদের ১২ মিলিয়ন ডলার জমা রয়েছে, যার মধ্যে ৫.১ মিলিয়ন ডলার WE4F প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ। নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসও তাদের অব্যবহৃত তহবিলের বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি। তিন দেশই USAID বা মার্কিন সরকারের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পায়নি।
এই পরিস্থিতিতে, তিন দেশই দাতা অংশীদারদের সাথে কাজ করে WE4F প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিকল্প উপায় খুঁজছে। তবে USAID ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।