মেলবোর্ন, ৩০ মে- মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আরও ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সমঝোতা কার্যকর করতে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন মিললে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে থমকে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় এটি বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে এই সময়সীমা আলোচনার চূড়ান্ত ডেডলাইন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। কারণ বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনির্দিষ্টকালীন হিসেবেই কার্যকর রয়েছে।
সম্ভাব্য এই সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন বন্দরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল, তা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ইরানের দাবি, প্রণালিটি ইরান ও ওমানের যৌথ জলসীমায় অবস্থিত হওয়ায় এর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথ কর্তৃত্ব থাকা উচিত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে ইরানের একক নিয়ন্ত্রণ বা টোল আদায়ের কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবে না।
সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনাকর ঘটনার পর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবারও সীমিত পরিসরে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে নতুন এই সমঝোতা আলোচনাকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
সুত্রঃ আল জাজিরা