এথেন্সে গ্যাস বিস্ফোরণে ৪ মার্কিন নাগরিকসহ নিহত ৬
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা প্লাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি দোতলা ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন…
মেলবোর্ন,০১ আগস্ট: মরক্কো সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউটায় ব্যাপক হারে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৫৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিউটা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিউটার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হুয়ান জেসুস ভিভাস সাংবাদিকদের জানান, গত এক দিনে স্থল ও সমুদ্রপথে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেছেন। তিনি ৫৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, প্রত্যেকের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী সমুদ্রের ভেতরে স্থাপিত সীমান্ত বেড়া সাঁতরে পার হয়ে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অনেকে দীর্ঘ পথ সাঁতরে আসতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। আবার সীমান্তের তারাজাল সৈকত সংলগ্ন তল্লাশিচৌকিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হয়েও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় তার সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। তিনি সিউটায় এভাবে ব্যাপক অনুপ্রবেশের ঘটনাকে স্পেনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্বের ওপর একটি গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহে সিউটায় প্রবেশ করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সিউটা থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিউটায় দায়িত্ব পালনকারী সিভিল গার্ড সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা রশিদ সাবিহি পরিস্থিতিকে “মারাত্মক মানবিক সংকট” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী, যাদের মধ্যে অভিভাবকহীন শিশুও রয়েছে, তারা খোলা আকাশের নিচে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন। অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের অভাবে রাস্তায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
রশিদ সাবিহির ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের বড় একটি অংশ সমুদ্রে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সীমান্ত অতিক্রমের সময় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হওয়ার ঘটনাতেও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কো সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সিউটার প্রবেশপথগুলোতে জলকামান মোতায়েন করে জনতাকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর সীমান্ত এলাকায় একটি বাস এবং অন্তত সাতটি গাড়ির পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রতীরবর্তী সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে সিউটার রাস্তায় প্রবেশ করছেন। তাদের অধিকাংশই মরক্কোর নাগরিক। এদের মধ্যে তরুণের সংখ্যা বেশি হলেও নারী, শিশু ও পুরো পরিবার নিয়েও অনেক মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউটা ও মেলিলা আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র স্থলসীমান্ত হিসেবে পরিচিত। উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রায়ই এই দুই সীমান্ত ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
সিউটায় পৌঁছানোর জন্য অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতরে অতিক্রম করেন। আবার অনেকে অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের বেলইউনেশ সীমান্তপথ ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক এই ব্যাপক অনুপ্রবেশ ও প্রাণহানির ঘটনায় ইউরোপের অভিবাসন সংকট এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au