সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, বাংলাদেশ এখন একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে একই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তার অবনতি ঘটেছে। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ এখন আর ব্যর্থতার পথে থাকা রাষ্ট্র নয়, এটি ইতোমধ্যেই একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত অনুপস্থিত।
অনুষ্ঠানকে ঘিরে গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন জয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলোকে অনুষ্ঠানটি কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ভারতের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে জয় বলেন, ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত যে, দেশটির পূর্ব সীমান্তে বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা শত শত জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে হিযবুত তাহরীরসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠন প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের পরবর্তী সন্ত্রাসীদের উৎস হবে বাংলাদেশ।”
একই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীতে সেটিকে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক অভিযানে রূপ দেওয়া হয়, যার লক্ষ্য ছিল সরকার পরিবর্তন। তাঁর ভাষায়, এটি শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছিল।
অনুষ্ঠিতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনও কামনা করেন।