জবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশের পর ফেসবুকে শেয়ার করা হলে সেটি কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে নেয় মেটা। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ভারত সরকার মেটাকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেটার বৈশ্বিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে মেটার প্রতিনিধিরা মার্ক জাকারবার্গের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বার্তা পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেন যে, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় কিছু ত্রুটি ছিল এবং এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতীয় সরকারি সূত্র দিয়ে জানিয়েছে, বৈঠকে মেটাকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, তারা কেবল একটি নিরপেক্ষ ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারে না। কারণ, কোন কনটেন্ট কতজন ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে এবং কোনটি বেশি প্রচার পাবে, সে বিষয়ে প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব অ্যালগরিদম ও সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় ‘সেফ হারবার’ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে ভারত সরকার জানিয়ে দেয়।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বৈঠকে মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্টের প্রচার বাড়াতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ ও নীতিমালাবহির্ভূত কনটেন্ট প্রচারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে ভুল হয়েছে, সেটিও তারা মেনে নিয়েছেন।
ভারত সরকার জানিয়েছে, বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও মেটার কর্মকর্তাদের আবারও তলব করা হতে পারে এবং তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এর আগে এনডিটিভির আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে তিন দিনের আলটিমেটাম দেয় ভারতের সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। ওই সময়ের মধ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় মেটার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
ভারতে মেটার কার্যক্রম, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা নিয়ে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এই বিতর্ক ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা ও ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের নীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au